
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেছে। ঘটনাটি ঘিরে ইউনিয়নজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলমের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি অম্বরনগর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলু সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর সরকারি বিধান অনুযায়ী ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের আট সদস্যের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনে তাঁর প্রতি অনাস্থা জানিয়ে সদস্য সুমনকে প্যানেল চেয়ারম্যান করার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়।
তবে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্যের অভিযোগ, তাঁদের সম্মতি ছাড়াই বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে ওই আবেদনে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শুরু হওয়ার পর তিনজন ইউপি সদস্য তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়ে স্বাক্ষর গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান।
এদিকে তদন্তের দিন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় উত্তেজনাকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন সদস্যের দাবি, হামলা-হুমকির আশঙ্কায় তাঁরা পরিষদে উপস্থিত হতে পারেননি। এছাড়া তদন্ত চলাকালে ইউনিয়ন পরিষদের আশপাশে বহিরাগতদের অবস্থান করতে দেখা যায়, যা সদস্যদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, “আমি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করছি এবং নাগরিক সেবাসহ সরকারি কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করে আসছি। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করে স্বাক্ষর নিয়েছে। তদন্তের দিনও বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণে অনেক সদস্য প্রকৃত বক্তব্য তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরতে পারেননি।”
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং তিনজন ইউপি সদস্য লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।”
এ বিষয়ে অম্বরনগর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের বিরোধ ও অভিযোগের কারণে জনসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলেরও অভিমত, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে এলে অযাচিত বিতর্কের অবসান হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জনআস্থা আরও জোরদার হবে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।
আপনার মতামত লিখুন :