
স্টাফ রিপোর্টার : সেনবাগ উপজেলার আলোচিত আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ ওরফে আজাদ মেম্বার দীর্ঘ ২৬ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার তার পক্ষে করা জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন সেনবাগ বাজারের সুলতান প্লাজা এলাকা থেকে একটি রাজনৈতিক মামলায় আজাদ মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে সেনবাগ থানা পুলিশ। পরদিন ২৯ জুন নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আমলি আদালত-৪-এর বিচারক নুরজাহান বেগম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে আবার জেলা দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে তিনি পান।
আবুল কালাম আজাদ সেনবাগ উপজেলার ৩ নম্বর ডুমুরুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর জিরুয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি ডুমুরুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য এবং স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
আবুল কালাম আজাদ ‘আজাদ মেম্বার’ নামে দেশজুড়ে পরিচিত। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি তার ব্যতিক্রমী ভালোবাসার কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন।
বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকা এলেই নিজের বাড়ি, দোকানঘর, উঠান ও আশপাশের এলাকা আকাশি-সাদা রঙে সাজিয়ে তোলেন তিনি। আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে সাজানো তার বাড়ি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ভিড় করেন। অনেকের কাছে এলাকাটি ‘বাংলাদেশের ছোট্ট আর্জেন্টিনা’ হিসেবেও পরিচিত।
আজাদ মেম্বারের স্ত্রী নাজমুন নাহার বলেন, দীর্ঘ ২৬ দিন পর আমার স্বামী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ সময়টা আমাদের পরিবারের জন্য খুবই কষ্টের ছিল। আমরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ যে তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তার মুক্তিতে পরিবার, স্বজন, প্রতিবেশী ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আশা করছি তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন এবং পরিবারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সময় কাটাতে পারবেন।
আজাদ মেম্বার বলেন, আমি দীর্ঘ ২৬ দিন কারাগারে ছিলাম। এই সময়ে যারা আমার খোঁজখবর নিয়েছেন, আমার মুক্তির জন্য দোয়া করেছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আর্জেন্টিনাকে আগের মত সাপোর্ট করে যাব তবে এই ফাইনাল আমি মানি না। ফিফা আর্জেন্টিনার সঙ্গে অন্যায় করেছে।
আজাদ মেম্বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আজিম চৌধুরী আজিম মানিক বলেন, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর আমরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পুনরায় জামিনের আবেদন করি। শুনানি শেষে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ১ম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
জেলা কারাগারের জেল সুপার আ. বারেক বলেন, আদালত থেকে জামিনের আদেশ পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তাকে কারামুক্ত করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :