প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৫ জুলাই, ২০২৬

সোনাইমুড়ীতে পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার এবং পৌরসভার সেনিটারি ইন্সপেক্টর সামছুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ফুটপাতে দোকান বসিয়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সোনাইমুড়ী বাজারের অগ্রণী ব্যাংক রোডের ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সোনাইমুড়ী বাজারে মেসার্স টুটুল ট্রেডার্সের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. হেলাল উদ্দিন টুটুল। এ সময় প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত থেকে অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ীরা বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পৌরসভার সেনিটারি ইন্সপেক্টর সামছুল আলম ও কয়েকজন কর্মচারী বিভিন্ন দোকান থেকে মালামাল নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়। তবে পরবর্তীতে জুন মাসে একই স্থানে আবারও কিছু ব্যক্তিকে দোকান বসানোর সুযোগ দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ ঘটনায় গত ২ জুলাই নোয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগের পর জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। কিন্তু যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর অধীনেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ ধরনের তদন্তকে তারা ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে ভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, হাট-বাজার উন্নয়ন, এলজিএসপি, কাবিখা, টিআরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ, বাজার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নাসরিন আক্তার এবং পৌরসভার সেনিটারি ইন্সপেক্টর সামছুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর