প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৬ জুলাই, ২০২৬

হাতিয়ায় আলিম পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল, সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

উপজেলা সংবাদদাতা, হাতিয়া : হাতিয়া উপজেলার হাতিয়া শহর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে অবাধ নকলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর কেন্দ্র সচিব,সুখচর আজহারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল গাফুরের দিকে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর দায়িত্বে পরিচালিত কেন্দ্রে পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং নকল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্র ও কেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির দাবি, চলমান ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় কিছু পরীক্ষার্থী বই নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে বাথরুমসহ বিভিন্ন স্থানে সেগুলো লুকিয়ে রাখে। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর তারা সুযোগ বুঝে বাথরুমে গিয়ে বই থেকে প্রয়োজনীয় অংশ ছিঁড়ে এনে উত্তরপত্রে লিখে। কেন্দ্রের বাথরুম ও আশপাশে ছড়িয়ে থাকা ছেঁড়া বইয়ের পৃষ্ঠা এবং নকলের বিভিন্ন আলামতের ছবি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতেও পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বরত কয়েকজন হলগার্ড অনিয়ম ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁদের নিরুৎসাহিত করা হয়। এতে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ হাতিয়ার এ কেন্দ্রে এমন অভিযোগ ওঠায় শিক্ষা প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, যদি অভিযোগের সত্যতা থাকে, তবে এটি শুধু একটি কেন্দ্রের অনিয়ম নয়; বরং পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য হুমকি।

তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব মাওলানা মো. আব্দুল গাফুর। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তারপরও আগামী পরীক্ষাগুলোতে আরও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, “বিষয়টি কেন্দ্র সচিবকে জানানো হয়েছে। সামনের পরীক্ষাগুলোতে কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করা হবে। অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের আলিম পরীক্ষায় এ কেন্দ্রে উপজেলার আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে ১৫টি বিষয়ের মধ্যে ১১টি বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বাকি চারটি বিষয়ের পরীক্ষা আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোতে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করে পরীক্ষার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর