প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৮ জুলাই, ২০২৬

সোনাইমুড়ীতে তোহা বাজারের জমি নিয়ে বিরোধ, মুখোমুখি পৌরসভা ও একাংশ ব্যবসায়ী

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী পৌরসভার তোহা বাজারের প্রায় ৪ দশমিক ২৫ একর সরকারি জমির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে পৌর কর্তৃপক্ষ ও একাংশ ব্যবসায়ীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। হকারদের পুনর্বাসনকে ঘিরে শুরু হওয়া এ বিরোধে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ৫৭০ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ৪ দশমিক ২৫ একর জমি তোহা বাজার নামে পরিচিত। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পৌর কর্তৃপক্ষ সেখানে হাঁস-মুরগি ও কবুতরের হাট পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। পরে বিধি অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাধারণ সভার সিদ্ধান্তের আলোকে সোনাইমুড়ী বাজারের যানজট নিরসনে প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নাসরিন আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসীমউদ্দীন। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি পৌরসভার কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

উচ্ছেদের পর হকাররা পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পৌর প্রশাসক স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শামসুল আলমকে তোহা বাজারে হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন। এরপর সেখানে হকারদের বসার ব্যবস্থা করা হয়।

তবে হকারদের পুনর্বাসনের পর বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী আপত্তি জানান। প্রগতি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাইনুদ্দিন ও ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তোহা বাজারের পান বিক্রেতা করিম হোসেন বলেন, “পৌরসভা আমাদের এখানে পুনর্বাসন করেছে। এখন আমরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছি।”
অভিযোগের বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শামসুল আলম বলেন, “তোহা বাজারের কিছু অংশে কয়েকজন ব্যবসায়ী অবৈধভাবে হোটেল ও দোকানপাট বসিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নিচ্ছিলেন। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে হকারদের পুনর্বাসন করার পর একটি মহল পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। এর আগেও তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নাসরিন আক্তার বলেন, “আমি আইন অনুযায়ী সরকারি দায়িত্ব পালন করেছি।”
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর