
মো. জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী, সেনবাগ : সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও এলাকায় নতুন একটি গ্যাসকূপের খননকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি সফলভাবে খনন ও ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) সম্পন্ন হলে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প’-এর কাজ শুরু হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে পুরোদমে খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে কূপটি ১ হাজার ৫৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খননকাজ শেষ করতে প্রায় ৪৫ দিন এবং পরবর্তীতে ১৫ দিনের ডিএসটি পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। এসব কার্যক্রম শেষে কূপটিতে গ্যাসের প্রকৃত মজুদের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সুন্দলপুর-৪ প্রকল্পের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান জানান, ১ হাজার ৩৬১ মিটার এবং ১ হাজার ৪৫০ মিটার গভীরতায় দুটি সম্ভাব্য গ্যাস জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে (এমডব্লিউডি-এলডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে) খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী অঞ্চলে প্রথম গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয় ১৯৭৬ সালে। এরপর ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় কূপ খনন করা হলেও ওই দুটি কূপে গ্যাসের মজুদ পাওয়া যায়নি। ২০১৩ সালে সুন্দলপুর-৩ কূপে গ্যাসের সন্ধান মেলে এবং সফলভাবে উৎপাদন শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে ওই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বাপেক্স নোয়াখালীতে সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ নামে আরও তিনটি গ্যাসকূপ খনন করেছে। বর্তমানে সুন্দলপুর-২ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সুন্দলপুর-১ ও সুন্দলপুর-৩ থেকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও সুন্দলপুর-৩ কূপে ওয়ার্কওভার শেষে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, সেনবাগে নতুন কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক গ্রাহকদের প্রয়োজন বিবেচনায় আগে সেনবাগে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, এতে এ অঞ্চলের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :