
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী উপজেলার ধন্যপুর মৌজার একটি জমিকে কেন্দ্র করে মালিকানা বিরোধ, আদালতে মামলা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে নতুন করে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, আইনগত মতামত এবং স্থানীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জমির মালিকানা, রেকর্ড ও দলিলের অসামঞ্জস্য।
সম্প্রতি নোয়াখালী জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমীর হোসাইন বুলবুল উভয় পক্ষের উপস্থাপিত দলিলপত্র পর্যালোচনা করে একটি আইনসম্মত মতামত দেন। ওই মতামতে তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধীয় ৬২৬১ নম্বর বিক্রয় দলিলে ১৩৩১ নম্বর দাগ ও এমআরআর ১০৫ নম্বর খতিয়ানের উল্লেখ না থাকায় দলিলে ত্রুটি রয়েছে। এ কারণে আদালতের মাধ্যমে দলিল সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একপক্ষে রয়েছেন জমির বর্তমান ক্রেতারা, যারা দাবি করেন তারা বৈধভাবে ১৪ শতক জমি কিনে নামজারি সম্পন্ন করেছেন এবং সেখানে ভবন নির্মাণ করছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষের দাবি, ১৩৩১ নম্বর দাগের একটি অংশে তাদের উত্তরাধিকার ও ক্রয়সূত্রে মালিকানা রয়েছে। এ বিষয়ে তারা আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করেছেন।
জমির ক্রেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে, কিছু লোক তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। কিন্তু এই অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এমন দাবির সমর্থনে কোনো স্বাধীন বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি), মামলা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি মূলত জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ। পরে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে অন্য প্রসঙ্গ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
আইনগত মতামতে আরও বলা হয়েছে, সাবেক ১৩৩০ ও ১৩৩১ নম্বর দাগের মোট ২০ শতক জমি বিএস জরিপে ১৭২৪ নম্বর দাগ হিসেবে রেকর্ড হয়। এর মধ্যে ১৪ শতক জমি আবদুর রহমানের নামে বিএস ২৩৩ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত ছিল এবং তিনি সেই জমি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করেন। তবে দলিলের ত্রুটি সংশোধনের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়াই আইনসম্মত পথ বলে মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দ্বিতীয় পক্ষকে তাদের দাবিকৃত অংশের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য স্বত্ব সাব্যস্ত, রেকর্ড সংশোধন ও বণ্টনের মামলা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের বিরোধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। আইনজীবীর মতামত আদালতের রায়ের বিকল্প নয়; বরং বিদ্যমান দলিল ও তথ্যের আলোকে একটি আইনি মূল্যায়ন মাত্র।
সব মিলিয়ে অনুসন্ধানে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে বিরোধের মূল বিষয় জমির মালিকানা ও দলিলগত জটিলতা। আর ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি ভবিষ্যতে উপযুক্ত প্রমাণ বা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।
আপনার মতামত লিখুন :