
উপজেলা সংবাদদাতা, হাতিয়া : হাতিয়া উপজেলার চর আতাউর এলাকায় সরকারি খাসজমি দখল, সংরক্ষিত বনভূমি উজাড়, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে তদন্তে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাতিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কাদের সম্প্রতি এ আদেশ দেন। আদালত আগামী ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, চর আতাউরকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত অভিযোগগুলো জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি সম্পত্তি দখল, সংরক্ষিত বনভূমি ধ্বংস এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে। বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে আদালত মত দেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে চর জাগলা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর নতুন করে চরাঞ্চলে দখলচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(গ) ধারায় হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উপকূলীয় বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত তদন্ত প্রতিবেদনে চর আতাউরের জমির মালিকানার প্রকৃতি, সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, মাটি কাটা বা ভরাট, সংরক্ষিত বনভূমি উজাড়, বৃক্ষ নিধন এবং হরিণসহ বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত বা অবৈধ শিকার-পাচারের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩, সংশোধিত বন আইন, ১৯২৭ এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
এদিকে আদালতের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করে সরকারি খাসজমি, সংরক্ষিত বনভূমি ও চরাঞ্চল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
আপনার মতামত লিখুন :