প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১ আগস্ট, ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে বিধি বহির্ভূতভাবে গাছ বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

উপজেলা সংবাদদাতা, কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫-৭টি মূল্যবান বনজ গাছ সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূতভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি শহীদ উল্যাহ শহীদের কাছে সরকারি নীতি মালা অনুসরণ না করেই ওই গাছগুলো বিক্রির করেন, প্রধান শিক্ষক শাহ আলম। এ নিয়ে এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রির সরকারি কোন নীতি মালা অনুসরণ না করে বিক্রি করে দেন। গত ২২ জুলাই বিক্রি করা গাছের মূল্য জমা না দিয়ে গাছগুলো যুবদল নেতা শহীদ কেটে নিয়ে যায়। সরকারি বিধি মোতাবেক বন বিভাগের মূল্য নির্ধারণ, অনুমতি, কোটেশান আহ্বান, পরিচালনা কমিটির মিটিং ও রেজুলেশনে না এনে সভাপতির স্বাক্ষর বিহীন বিধি বহির্ভূতভাবে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক গাছগুলো বিক্রি করে দেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ ঘটনায় এলাকায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম তড়িঘড়ি করে ২৯ জুলাই যুবদল নেতা শহীদকে স্কুলে ডেকে নিয়ে তার কাছ থেকে ৭হাজার টাকা আদায় করে প্রতিষ্ঠানে জমা দেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুসরণ না করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিছু ভুল ভ্রান্তি হয়েছে। বিক্রির সিদ্ধান্ত হলেও ক্রেতা যুবদল নেতা শহীদ নির্ধারিত মূল্য ৭হাজার টাকা পরিশোধ না করে স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায় গাছগুলো কেটে নিয়ে যায়। স্কুল খোলার পর গাছগুলো কেটে নেয়ার ঘটনা আমি দেখলে যুবদল নেতা শহীদ উল্যাহ শহীদকে স্কুলে ডেকে আনি। পরে শহীদ ৭হাজার টাকা আমাকে দেয়ার পর তা আমি স্কুল কোষাগারে জমা দিই।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজিম উদ্দিন ফারুক জানান, কমিটিতে আমি নবাগত। গাছ বিক্রির বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি এবং এ সংক্রান্ত কোন মিটিংও হয়নি।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা মোঃ গিয়াস উদ্দিন জানান, শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্কুলের গাছ বিক্রির বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে মূল্য নির্ধারণের আমাদেরকে কোন কিছুই অবহিত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান সরকারি বিধি অনুসরণ করেননি।

প্রসঙ্গত; এর আগেও সরকারি সড়কের গাছ যুবদল নেতা শহীদ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজগর হোসেন ওই মূল্যবান মেহগনি গাছের অংশ বিশেষ উদ্ধার করে পরিষদ চত্বরে রেখেছেন। তবে এখনও এ ঘটনায় কোন মামলা না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর