
উপজেলা সংবাদদাতা, হাতিয়া : দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ইসলাম চর সংলগ্ন নদীতে অবৈধভাবে নদীঘের নির্মাণের বিরুদ্ধে নৌ-পুলিশ ও বনবিভাগের যৌথ অভিযানে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ইসলাম চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের নলচিরা নৌঘাটে আনা হয় এবং বুধবার হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়।
নৌ-পুলিশ ও নলচিরা বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার ইসলাম চর এলাকায় বহিরাগত একটি চক্র স্থানীয় বনাঞ্চলের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের তৈরি করে মাছ শিকার করছিল। এতে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। এছাড়া এসব ঘেরে বালি ও পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জেলেরা উন্মুক্ত নদীতে মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটকদের মধ্যে অধিকাংশই পার্শ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তরবালি এলাকার বাসিন্দা এবং কয়েকজন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের বাসিন্দা। এছাড়া একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযানে আটক হওয়া কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নলচিরা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা বাবুল হক বলেন, বহিরাগতরা বনাঞ্চলের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে অবৈধভাবে নদীতে ঘের তৈরি করে মাছ শিকার করছিল। পরিবেশ ও বনসম্পদ রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, অবৈধ নদীঘেরের কারণে বিভিন্ন নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। এ ঘটনায় মৎস্য আইন ও অবৈধ চরঘেরা জাল সংক্রান্ত আইনের ৫(১) ধারায় মামলা দায়ের করে আটক ব্যক্তিদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :