প্রকাশিত: ৫ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৫ আগস্ট, ২০২৬

হাতিয়ায় শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে পল্লী চিকিৎসককে বেত্রাঘাত, জরিমানা

উপজেলা সংবাদদাতা, হাতিয়া : হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে হেলাল উদ্দিন নামে এক পল্লী চিকিৎসককে স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটি তার ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে একটি দোকান থেকে মসলা কিনে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় হেলাল উদ্দিন তাদের ডেকে নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ছোট বোনকে সামনে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন। শিশুটি চিৎকার করে বেরিয়ে এলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন।

পরে বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হেলাল উদ্দিন। তার দাবি, তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, হেলাল উদ্দিন একসময় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে অভিযুক্ত এ দাবিও অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ, ভুক্তভোগী পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তারা যথাযথ আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের নিষ্পত্তি গ্রাম্য সালিসে নয়, প্রচলিত আইনের আওতায় হওয়া উচিত।

হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগের বিচার গ্রাম্য সালিস বা ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ারে পড়ে না। ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, দুর্গম এলাকার কারণে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের নজরে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর