
শাহরিয়ার আলম, নোবিপ্রবি : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ও অবৈধভাবে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে হল প্রশাসন। কক্ষ পরিদর্শনের ভিত্তিতে নিয়মিত হলে অবস্থান না করা শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত আসন (সিট) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহিরাগত প্রবেশ, অনুমোদনহীন কক্ষ পরিবর্তন, মাদক ও অস্ত্র সংরক্ষণ এবং গৃহপালিত প্রাণী নিয়ে হলে প্রবেশের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হলের প্রভোস্ট দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত জুন মাস থেকে হলের প্রতিটি আবাসিক কক্ষ পর্যায়ক্রমে ও দৈবচয়নের ভিত্তিতে অন্তত তিনবার পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব পরিদর্শনের ফলাফলের ভিত্তিতেই নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।
হল প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কক্ষ পরিদর্শনের সময় ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের হলে নিয়মিত অবস্থান না করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের বরাদ্দকৃত আসন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া আসনের তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
এছাড়া পরিদর্শনের সময় কিছু অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে গ্রুপ স্টাডি বা খেলা দেখার অজুহাতে বিভিন্ন কক্ষে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ভবিষ্যতে কোনো অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে কোনো কক্ষে অবস্থানরত পাওয়া গেলে, তাকে ওই আসনের নিয়মিত ব্যবহারকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সে ক্ষেত্রে আসনটি অবৈধ দখলে রয়েছে বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে হলের আসন পাওয়ার সুযোগ হারানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সর্বশেষ কক্ষ পরিদর্শনের সময় যে শিক্ষার্থী যে কক্ষে অবস্থান করেছেন, তাকে ওই কক্ষের বাসিন্দা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পরবর্তীতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কক্ষ পরিবর্তন করতে চাইলে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে প্রভোস্টের পূর্বানুমতি নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কক্ষ পরিবর্তন করলে আসন বাতিল করা হতে পারে।
এ ছাড়া অনুমোদনহীন কক্ষে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকেই বহন করতে হবে। কোনো কক্ষে মাদকদ্রব্য, ধারালো অস্ত্র বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া গেলে ওই কক্ষে অবস্থানকারী এবং কক্ষটি যাদের নামে বরাদ্দ রয়েছে সবার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হলের ভেতরে কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণী নিয়ে প্রবেশ এবং কক্ষ বা করিডোরের সামনে প্রাণীদের খাদ্য দেওয়াও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হল প্রশাসনের ভাষ্য, প্রাণীদের অবাধ বিচরণের কারণে আবাসিক পরিবেশে অসুবিধা ও অস্বস্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে জানানো হয়, দল, মত, বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। হলের সার্বিক শৃঙ্খলা ও আবাসিক পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের প্রভোস্ট মো. ফরিদ দেওয়ান বলেন, “আমরা একাধিকবার হলের কক্ষ পরিদর্শন (রুম ভিজিট) করেছি। পরিদর্শনে যাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে অবস্থান করতে দেখা গেছে, তাদের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যেসব শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করা হয়েছে, তারা চাইলে হল অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ-সংক্রান্ত পাঁচটি নির্দেশনাই হলের নোটিশে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :