• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪

শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখায় মোহাম্মদ হাশেম পদক পেলেন নোবিপ্রবি উপাচার্য

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখায় মোহাম্মদ হাশেম পদক-২০২৪ পেলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে নোয়াখালী আঞ্চলিক গানের জনক অধ্যাপক মোহাম্মদ হাশেমের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লোক উৎসব এ পদক তুলে দেন নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু।

পদক পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম বলেন, আমি একজন শিক্ষক। শিক্ষক হিসেবে সব সময় আমি ন্যায় মেনে চলেছি। আমাকে শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষাকতার বাহিরে আমার কিছু নাই। আমার অনেক গবেষণা আছে। আমি কোনো ফাঁকিতে ছিলাম না।

অনুষ্ঠানে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণে বিশেষ ভূমিকার জন্য হাশেম লোক উৎসব-২০২৪ সম্মাননা দেওয়া হবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা সাংবাদিক পরিবার বহুমুখী সমিতির সেক্রেটারি মফিজুর রহমান খান বাবু।

হাশেম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুস্তফা মনওয়ার সুজনের সঞ্চালনায় নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর, রেজিস্ট্রার মো. জসীম উদ্দিন, নোয়াখালীর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখিনুর জাহান নীলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদ বিন আকন্দ, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক বাদল, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মঞ্জু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বলেন, নোয়াখালীর আঞ্চলিক গান ও সূরের সম্রাট অধ্যাপক হাশেম তার অনবদ্য সৃষ্টির মাধ্যমে নোয়াখালীর সঙ্গীত জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন। নোয়াখালীর হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন শিল্পী হাশেম।

প্রসঙ্গত, লোকগীতির বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাশেমের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২২ জানুয়ারি) ও মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) নোয়াখালীর মাইজদীতে দুই দিনের ‘হাশেম লোক উৎসব-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়। উৎসব ঘিরে ‘লোকগীতির জাদুকর মোহাম্মদ হাশেম’ শিরোনামে স্মারনিকা প্রকাশিত হয়।

নোয়াখালীর প্রধান সংগীত খ্যাত ‘আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী রয়াল ডিস্ট্রিক ভাই/হেনী মাইজদী চৌমুহনীর নাম কে হুনে নাই’সহ হাজারো গানের গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী মোহাম্মদ হাশেমের জন্ম ১৯৪৭ সালের ১০ জানুয়ারি। নোয়াখালী সদরের চরমটুয়া ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে তার বাড়ি। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৭০ সালে রেডিও পাকিস্তানের অনুষ্ঠান সংগঠক হিসেবে তার পেশাজীবন শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে ঢাকা সংগীত কলেজ, কবিরহাট সরকারি কলেজ, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজসহ দেশের বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতার পর তিনি ২০০৫ সালে নোয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অবসর নেন।

২০০৫ সালে অমর একুশে বইমেলায় উৎস প্রকাশন বের করে মোহাম্মদ হাশেমের গানের প্রথম সংকলন ‘নোয়াখালীর আঞ্চলিক গান’। এরপর ২০১৫ সালে মোহাম্মদ হাশেমের রচিত বাছাই করা আড়াইশ গান নিয়ে উৎস প্রকাশন বের করে ‘নির্বাচিত নোয়াখালীর আঞ্চলিক গান’। মোহাম্মদ হাশেম ২০২০ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মাইজদী শহরের বড় দিঘির উত্তর পাড়ে কোর্ট মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

অধ্যাপক মোহাম্মদ হাশেমের লেখা গান চর্চা ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে মোহাম্মদ হাশেম ফাউন্ডেশন। জেলা শহরে চার বছর ধরে মোহাম্মদ হাশেমের জন্মদিন উদযাপনে হাশেম উৎসব আয়োজন করে আসছে এই ফাউন্ডেশন। ২০২২ সাল থেকে প্রবর্তন হয় মোহাম্মদ হাশেম পদক।

গেল বছর মোহাম্মদ হাশেম পদক-২০২৩ পেয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কিৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের যন্ত্রশিল্পী গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার। ২০২২ সালে একই পদক পান বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হাসান মতিউর রহমান এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল। এছাড়াও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য মোহাম্মদ হাশেম ফাউন্ডেশনের জুরিবোর্ড মনোনীত ১৩ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর