• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বিষমুক্ত রঙিন ফুলকপি ও ব্রোকলির ফলন ভালো, কৃষকের মুখে হাসি

বিশেষ প্রতিবেদক : সুবর্ণচরে চাষ হয়েছে বেগুনি, হলুদ রঙের ফুলকপি ও ব্রোকলি। সম্পুর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা বিষমুক্ত রঙিন ফুলকপি ও ব্রোকলির ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক টুটুল চন্দ্র দাসের মুখে হাসি। উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ঘোষফিল্ড এলাকায় বাড়ির পেছনে ৫০ শতাংশ জমিতে রঙিন স্বপ্নের এমন জাল বুনছেন তিনি।
জানা গেছে, স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কাজ করছেন। যার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করছে পিকেএসএফ। কৃষক টুটুলের ৫০ শতাংশ জমিতে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে আছে বেগুনি, হলুদ ও সবুজ রঙের কপি, ব্রোকলি। সম্পুর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা রঙিন ফুলকপি ও ব্রোকলি সুস্বাদু, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং ক্যান্সারসহ নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। এই রঙ্গিন সবজির ঔষধিগুণ থাকায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। জমিতে কীটনাশকের পরিবর্তে পোকা-মাকড় দমনে সেক্স ফেরোমন ও আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে।

চলতি মৌসুমে সাগরিকার কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৫০ শতক জমিতে বেগুনি, হলুদ ও সবুজ রঙের ফুলকপি এবং ব্রোকলি চাষ করেছেন টুটুল ও তার ভাই বিপুল চন্দ্র দাস। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতিদিন জমি থেকে রঙ্গিন কপি, ব্রোকলি কেটে বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। ভিন্ন ধরনের এ কপি ও ব্রোকলির চাহিদা বেশি থাকায় প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তারা জানান, আর নতুন এমন সবজি দেখতে এলাকার নানা বয়সী মানুষ নানা জায়গা থেকে আসেন।

বাজারে বিক্রির জন্য নিলে কৌতুহলী মানুষ সেখানে ভীর জমান। বিক্রিতেও বেগ পেতে হয়না।

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কৃষি কর্মকর্তা শিবব্রত ভৌমিক জানান, রংভেদে এতে রয়েছে ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস, যা ফল-ফুলের নানা রঙয়ের জন্য দায়ি। এই ‘ব্রুকো ফ্লাওয়ার’-এ রয়েছে ভিটামিন এ ডি ই কে ও বি-কমপ্লেক্স। এছাড়াও ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, সালফার সহ বিভিন্ন খনিজ মৌল ও ফাইটোকেমিক্যাল আছে। এই ফুলকপির গ্লাইসেমিক ভ্যালু কম থাকায় ডায়াবেটিসের রোগিরা অনায়েসেই খেতে পারেন। বেগুনি ফুলকপিতে সাদা ফুলকপির তুলনায় ২৫% বেশি থাকে। অন্য ফুলকপির তুলনায় একটু স্বাদ ও বেশি মিষ্টি হয়।

রঙিন ফুলকপিতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, অ্যান্থোসায়ানিন। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। হলুদ ও বেগুনি ফুলকপিতে ক্যারোটিনয়েডের সঙ্গে ফ্ল্যাভিনয়েডও রয়েছে। রঙিন ফুলকপিতে কোসিনোলেট রয়েছে বেশি পরিমাণে যা মানব শরীরে ক্যান্সার সেল সৃষ্টিকারী উপাদানকে সহজেই বিনষ্ট করতে সক্ষম। এছাড়া ব্রোকলিতে থাকে গ্লোকোরাফানিন, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

রঙিন হলেও এটি হাইব্রিড নয়। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, প্রাকৃতিকভাবে জিনের পরিবর্তন ঘটানোর ফলে রঙিন হয়। তাই এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এই নতুন ফসল গ্রামিণ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর