• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

তিন মাসে ১৪৩ রোহিঙ্গার হাতে পাসপোর্ট, গ্রেপ্তার ২৩

রোহিঙ্গা ও দাগি অপরাধীদের অবৈধভাবে জন্ম সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের ২৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ও রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগের পৃথক অভিযানে ঢাকা, টাঙ্গাইল ও কক্সবাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা গত তিন মাসে ১৪৩ রোহিঙ্গার হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তুলে দিয়েছে। পাশাপাশি দাগি আসামি ও অপরাধীদেরও অবৈধভাবে ভুয়া জন্ম সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়েছে চক্রটি।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর-রশীদ এসব তথ্য জানান।

জানা যায়, ছয় ঘণ্টার মধ্যে জন্ম সনদ তৈরি করে দিতে চক্রটি ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা নেয়। আর তিন দিনের মধ্যে এনআইডি তৈরি করে দিতে ২৫ হাজার টাকা এবং পাসপোর্ট তৈরি করে দিতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা এলাকা থেকে চক্রের তিন রোহিঙ্গা ও ১০ বাংলাদেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার কক্সবাজার, টাঙ্গাইল ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আনসার সদস্যসহ রোহিঙ্গা ও বাঙালি দালাল চক্রের আরও আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে ১৭টি পাসপোর্ট, ১৩টি এনআইডি, পাঁচটি কম্পিউটার, তিনটি প্রিন্টার, ২৪টি মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট তৈরির কয়েক শ দলিলপত্র জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়াও গত তিন মাসে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি করা ১৪৩টি পাসপোর্টের ডেলিভারি স্লিপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০১৯ সাল থেকে চক্রটি রোহিঙ্গাদের ও বাংলাদেশি দাগি অপরাধীদের ভিন্ন নাম ও ঠিকানায় পাসপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছে। চক্রের সদস্যরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও বরিশাল জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম সনদ ও এনআইডি বানিয়ে তার ভিত্তিতে ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি করে আসছিল।

চক্রের একটি দল কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি থেকে রোহিঙ্গাদের ঢাকায় নিয়ে আসে। আরেকটি দল এদের জন্য জন্ম সনদ ও এনআইডি বানিয়ে দেয়।

সর্বশেষে তৃতীয় আরেকটি দল ঢাকাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া, বায়োমেট্রিক্স করা ও ছবি তোলার ব্যবস্থা করে দিত।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর