
উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ : মা বেগম ফজিলাতুন্নেসার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে মেজবানি খাওয়ালেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের নিজ বাড়িতে ৮ টি প্যান্ডেলে এ মেজবানি খাওয়ানো হয়।
জানা গেছে, নোয়াখালীর প্রবীন বাবুর্চি সাইদুল হকের নেতৃত্বে ১৫ টি গরুর ১১০ মণ গোশতের মেজবানিতে ৫০ মন আলু ছিল। সাথে ছিল খাসি, মুরগী, ডাল ও মহিষের দই। দুপুর একটায় বসুরহাট পৌরসভার বড় রাজাপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন ওবায়দুল কাদের। তারপর বাবা মায়ের কবর জিয়ারত করেন। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা মধ্যাহ্নভোজে অংশ গ্রহণ করেন। বিকেল সাড়ে ৩ টায় তিনি ঢাকার উদ্যেশ্য রওনা দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৮ টি প্যান্ডেলে প্রায় ২০০ সহকারী ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে খাবার পরিবেশন করছেন
নোয়াখালীর প্রবীন বাবুর্চি সাইদুল হক। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান খেতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতাকর্মী ছাড়াও কোম্পানীগঞ্জের আপামর মানুষ একের পর এক বসছেন। এছাড়াও ফেনী, লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মিলাদ মাহফিল ও মেজবানিতে অংশগ্রহণ করেন।
মেজবানিতে অংশগ্রহণ কারী নিজামুদ্দিন বলেন, অনেক বিশাল আয়োজন ছিলো। সবাক পেট ভরে খেয়েছে। আমরা শুনেছি এই বাড়িতে মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আছে তাই এসেছি।
নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা এসেছি, আয়োজন সুন্দর ছিলো। আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরের মা বেগম ফজিলাতুন্নেসার জন্য দোয়া করেছি।
বাবুর্চি সাইদুল হক বলেন, ৮ টি প্যান্ডেলে প্রায় ২০০ সহকারী ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে খাবার পরিবেশন করেছি। ১৫ টি গরুর ১১০ মণ গোশতের মেজবানিতে ৫০ মন আলু ছিল। সাথে ছিল খাসি, মুরগী, ডাল ও মহিষের দই। দিনব্যাপী প্রায় ২০ হাজার মানুষ মেজবানি খেয়েছে।
কাদের মির্জা বলেন, ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা ৯২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাই ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবছরের মতো মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মেজবানি রান্নায় বিশেষ পরিচিত বাবুর্চি সাইদুল হক বাবুর্চির তত্ত্বাবধানে ১০০ জনের একটি দল রোববার থেকে মেজবানের রান্নায় অংশ নেয়। মন্ত্রী মহোদয় বাড়িতে এসে প্রথমে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। তারপর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। তারপর খাবার শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
মেজবানিতে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম, নোয়াখালী- ৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ, নোয়াখালী- ৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ এম খাইরুল আনম চৌধুরী সেলিম, সাধারণ সম্পাদক শহিদ উল্যাহ খান সোহেল প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :