প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৮ মার্চ, ২০২৪

কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সহকারী ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান রাসেল ও সিনিয়র অফিসার নিশানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণে ও অশোভন আচরণ গ্রাহকদের হয়রানি সহ নানান অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগের ঘটনায় বুধবার দুপুরে তদন্তে আসেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঢাকার ইস্কাটনের প্রধান কার্যালয়ের এ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন ও নোয়াখালী জোনের প্রধান আবু তাহের।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ। কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাট প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক শাখার নানান অনিয়ম সম্পর্কে তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায় জাতীয় দৈনিক সকালের সময় স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আমির হোসেন তার ছোট ভাই ওমান প্রবাসী আমজাদ হোসেনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ কোম্পানীগঞ্জ শাখায় আসলে দীর্ঘ দুই মাস হয়রানি সম্মুখীন হয়ে সর্বশেষ ৩ লক্ষ টাকা ঋণ চাইলে দিবে বলে তাদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সরকারি ফান্ডে টাকা নেই বলে এক লক্ষ পন্ঞ্চাশ হাজার টাকার চেক প্রদান করে। একি ঘটনা ঘটে জাতীয় দৈনিক আলোকিত নিউজ নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি শাহাদাত শাহেদের সাথে তার আঙ্কেল মহিন উদ্দিন আবুধাবি প্রবাসীর জন্য ঋণ নিতে গেলে সম্মুখীন হন।

এছাড়াও ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া গ্রাহক আবু নাছের ওয়াসিম জানান, আমি সৌদি আরবের দাম্মাম প্রবাসী। আমার বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা প্রয়োজন হওয়ায় আমি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করার জন্য তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার ও বর্তমানে সহকারী ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান রাসেলের নিকট যাই। রাসেল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে আমি কাগজপত্র সংগ্রহ করে তার নিকট জমা প্রদান করি। সে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ২মাস সময় ক্ষেপন করে। উপায়ান্তর না দেখে আমি ৩লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করি, বিনিময়ে ৫০হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করি। আমি তাকে নগদ ৪০হাজার টাকা ও বিকাশের মাধ্যমে ১০হাজার টাকা প্রদান করি। আমি আমার ৫০হাজার টাকা ফেরত চাই।

এ অভিযোগের আলোকে ভুক্তভোগী গণমাধ্যম কর্মী শাহাদাত সাহেদ ও দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি তবিবুর রহমান টিপু এবং দৈনিক আজকের জনবানী পত্রিকার প্রতিনিধি নাছের উদ্দিন ৩ মার্চ রোববার ব্যাংক কার্যালয়ে গেলে সহকারী ম্যানেজার রাসেল ও সিনিয়র অফিসার নিশান অশোভন আচরণ করে।

বসুরহাট পৌরসভার প্রবাস কল্যান হেল্প ডেক্সের দায়িত্ব কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, ম্যানেজারসহ ব্যাংকের প্রত্যেক স্টাফদের আচরণ খুবই খারাপ। ১লক্ষ টাকা ঋণ নিলে তাদেরকে ১০হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। শতকরা ৮০-৯০ ভাগ লোকজন ঋণ নিতে ১০%হারে ঘুষ দিতে হয়। আমরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

অশোভন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুক আইডি ঘড়ধশযধষরৎ অসরৎ ঐড়ংংধরহ পোস্ট করা হলে ভাইরাল হয়ে পড়ে, যা পরবর্তী নানান ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট করা হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে,সে আলোকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বুধবার তদন্ত কমিটি পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী ব্যাংক কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যান্ত আশা নিয়ে গরিব-দুঃখী ও প্রান্তিক লোকদের উপকারার্থে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার জন্য এ ব্যাংক সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের এমডি মহোদয় মুজিবুর রহমানের নির্দেশে এ ঘটনার তদন্তে এসেছি। আপনাদের এ অভিযোগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছে দিব। তদন্ত স্বাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর