• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৯ জুলাই, ২০২৪

বেগমগঞ্জ ভূমি অফিসটি দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়া

Oplus_131072

উপজেলা প্রতিনিধি, বেগমগঞ্জ : বেগমগঞ্জের মীরওয়ারিশপুর তহশিল অফিসে তহশিলদার আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়সহ সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসকল অভিযোগের বিষয়ে জানালেও ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বেগমগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অপর দিকে এই অফিসে সাংবাদিকরা আসেন, তবে কেউ খবর লিখেন না বললে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেন তহশিলদার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর গ্রামের মৃত তোফায়েল আহমেদের পুত্র আব্দুর রহিম (৫৫) বসে আছেন তহশিলদার আব্দুল করিমের সামনে। সে হঠাৎ এক পর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে তহসিলদারকে বললেন আমার টাকা ফেরত দেন, আর না হয় নামজারি করে দেন।

পরে ওই ভুক্তভোগী জানান, বিগত এক বছর পূর্বে আদালতের মামলার নং ১৫৩/২২ প্রতিবেদন দাখিল করতে তহসিলদার আব্দুল করিম তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে দর কষাকষির একপর্যায়ে ১৫ হাজার টাকা দেন। টাকা নেয়ার পর উল্টো প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আরেকজন ভুক্তভোগী মিরওয়ারিশপুরের জয়নাল আবেদীনের ছেলে কামরুল হাসান। তিনি জানান, ২০২৩ সালের শেষদিকে ওই মৌজার ৬ শতাংশ নাল জায়গা নামজারি করতে ভূমি অফিসে যান। তহশিলদার আব্দুল করিম ১২হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তার নামজারি করে দেন।

নরত্তমপুর গ্রামের দুলাল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, ইতিপূর্বে তার মামা মইনউদ্দিন নামে ১৬২ ডিং নাল সম্পত্তির খাজনা পরিশোধ করতে মিরওয়ারিশপুর ভূমি অফিসে গেলে তহশিলদার আব্দুল করিম ও সহকারী তহসিলদার শাহানেওয়াজ তিন হাজার ৫০০ টাকার খাজনা রিসিট কেটে ছয় হাজার টাকা নিয়েছেন।

মিরওয়ারিশপুর ভূমি অফিস এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দোকানী জানান, এই ভূমি অফিসটি দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। টাকা ছাড়া কোন ফাইলেই সই হয়না। এখানে সেবাগ্রহীতারা এলেই হয়রানি শিকার হয়। তহশিলদার আব্দুল করিম ও সহকারী তহশিলদার শাহানেওয়াজ এই অফিসে দীর্ঘ ৪ বছরের বেশি হয়েছে। তারা এলাকার দালালদের সাথে তাদের সখ্যতা করে উপকার ভোগীদের জিম্মি করে রেখেছে।

মিরয়ারিশপুর ভূমি অফিসের তহসিলদার আব্দুল করিম বলেন, “চার বছর পূর্বে চাটখিল পৌর তহসিল অফিস থেকে এখানে যোগদান করেছি। মিরওয়ারিশপুর, নরোত্তমপুর, বেগমগঞ্জ তিন ইউনিয়নের দায়িত্বে রয়েছেন তিন। বহু সাংবাদিক এই অফিসে আসেন,কেউ খবর লেখেনা। ভূমি অফিসগুলোতে অনিয়ম হয়ে থাকে এটা সবাই জানে। নতুন করে জানানোর কিছুই নেই।”

এবিষয়ে কথা হলে বেগমগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি)সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, তহসিলদার আব্দুল করিম চার বছর থেকে মিরওয়ারিশপুরে রয়েছে। অভিযোগ দিলেও আব্দুল করিমকে কিছু করার ক্ষমতা তার নাই। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করবেন।

আরও পড়ুন