
আলা-উদ্দীন সুজন, সদর : কোটা আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের ভেতর ঢুকে বিএনপি জামায়াত সহিংসতার বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নোয়াখালী-৪ সদর-সুবর্ণচরের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এমপি’র এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ জুলাই রোববার বিকাল ৪টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ ও সমাবেশ পরবর্তী মিছিলের অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্যবৃন্দ, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটে। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক বাবু ইমন ভট্টাচার্য, যুগ্ম আহবায়ক একরামুল হক বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের রাতুল, উপজেলা ছাত্রলীগের আজগর, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু নাইম তানিম, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিপ্ত, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রাহুল দে প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের একটি যৌক্তিক আন্দোলন ছিল। সেই আন্দোলনে পূর্ব পরিকল্পিত পাকিস্তানি হানাদারের সেই বাহিনী রাজাকার পুত্ররা প্রবেশ করে সারাদেশে হত্যা ভাংচুর অগ্নি সন্ত্রাস নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। ২০ জুলাই জুমার পর ছাত্রদের আন্দোলনের ভেতরে ঢুকে তারা সারাদেশে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রের জনগণের সম্পদ ধ্বংস করে। এই ঘৃণ্য সহিংসতার সময় তারা পুলিশ হত্যা করেছে, র্যাব হত্যা করেছে, সেনাবাহিনীর উপর হামলার চেষ্টা করেছে এবং বাংলাদেশের বহুকালের স্বপ্ন মেট্রোরেলসহ বহু প্রকল্প জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।
ঘরে ঘরে ঢুকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খুঁজে বের করে হত্যা করে ফ্লাইওভাবে উলঙ্গ করে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই সব সহিংসতাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠিন বিচারের দাবি জানায় বক্তরা।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, ছাত্র আন্দোলনে বিএনপি জামায়াত রাজাকার পুত্রদের সহিংসতার বিরুদ্ধে এই সমাবেশ থেকে বলছি, আজ থেকে আমরা একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে রাজপথে আছি।
জেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক একরামুল হক বিপ্লব বলেন, কোটা আন্দোলনে বিএনপি জামায়াত শিবিরের উগ্রবাদী সহিংসতার সময় আমরা প্রতিরোধ করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় আসতে চেয়েছি কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এবং একরাম ভাই বলেন আওয়ামী লীগ রাস্তায় এলে সহিংসতা বেশি হবে, তাই আমরা আসি নাই।
জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক বাবু ইমন ভট্টা বলেন, আমাদের এখন ঐক্যের প্রয়োজন। বিএনপি জামায়াত শিবিরের উগ্রবাদী ঐ পাকিস্তান প্রেতাত্মাদের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা সেইদিনই রাস্তায় আসতে চেয়েছি। যদি সেই দিন আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাস্তায় মুখোমুখি হতো তাহলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হতো। আমাদেরকে পুলিশ প্রশাসন নিষেধ করার কারণে আমরা সেই দিন রাস্তায় আসি নাই। আজ থেকে ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের দিকনির্দেশনা আমরা একরামুল করিম চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে জেলায় রাজপথে আছি, একটা করে শিবির ধরবো আর বঙ্গবসাগরে ফেলবো। শেখ হাসিনার প্রশ্নে কোন আপোষ নাই, তাই সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আরেকটা যুদ্ধ করে এই নৈরাজ্যকারি সহিংসতাকারি পাকিস্তানি বাহিনী রাজাকারদের থেকে মুক্ত করবো। এই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে ওবায়দুল কাদের এবং শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে মৃত্যু পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভাই আমাকে বলেছেন সমাবেশ করার জন্য, তাই দুই ঘন্টার মধ্যে আমি এর আয়োজন করেছি। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে বলেন। আগামী ৩০ জুলাই আমি জনসভা করবো, সেই জনসভায় জেলা আওয়ামী লীগকে নিমন্ত্রণ জানিয়ে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি মাইজদী শহর প্রদক্ষিণ করে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
আপনার মতামত লিখুন :