
নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : ভিবিষীক্ষাময় সহিংসতার দায়ে জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ৩১ জুলাই বুধবার বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ রাজনৈতিক সায়েদুল হক ছাদু। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন কবিরাহাট উপজেলা মসজিদে মাওলানা মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতাউর রহমান নাছের এবং সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা নাইম।
বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি নাইম। তিনি বলেন, আমাদের সমাবেশ কোন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে না, এই সমাবেশ যারা সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনের প্রবেশ করে বাংলাদেশে সহিংসতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে। এই সমাবেশ থেকে জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে যেই নির্দেশনা দিবেন আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো। সুন্দলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজ্বী ইলিয়াস মিয়া বক্তব্যে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নেন। নুরুল আমিন নুরু তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল তারাই আবার সহিংসতা করে চলেছে। এদের বিরুদ্ধে দেশের আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলম রকি বলেন, জামায়াত শিবির সাধারণ ছাত্র সমাজের আন্দোলনে প্রবেশ করে নিঃসংশ সহিংসতা চালিয়েছে। আমরা সেই জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছি এবং জামায়াত শিবিরের যে কোন সহিংসতার বিরুদ্ধে মোকাবেলা করবো ইনশাআল্লাহ। কবিরাহাট পৌরসভা মেয়র ও কবিরাহাট উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক রায়হান বলেন, যতবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের ক্ষমতায় বসে উন্নয়ন করেছেন জামায়াত শিবির আর বিএনপি সেই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং সহিংসতা চালিয়ে অসংখ্য উন্নয়ন ধ্বংস করছে। তাই জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনে প্রবেশ করে সারাদেশে একটা হামলা চালায়, তারা সেতু ভবনে হামলা করে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দোকানপাট, যানবাহনে জ্বালাও পোড়াও করেছে।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী সূবর্ণচর উপজেলার নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাবাব চৌধুরী, বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকফজলুল হক সুজন, জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক বাবু ইমন ভট্টা, যুগ্ম-আহবায়ক একরামুল হক বিপ্লব, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা জজ আদালত পিপি এডভোকেট গুলজার আহমেদ জুয়েল। বক্তাগন বলেন, বিএনপি জামায়াত শিবির রাজাকারের দল। এই উগ্রবাদী সহিংসতাকারি সংগঠনকে রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অতি উত্তম সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের জন্য চোদ্দ দল এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান এবং বিএনপি জামায়াত রাজাকারের যে কোন সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজপথে সবাই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান থাকবে বলেন।
সর্বশেষ বক্তৃতা করতে আসেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এমপি। হটাৎ বৃষ্টির কারণে তিনি সহিংসতা কারিদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াত শিবিরের উগ্রবাদী সহিংসতা চলছে আমার বিরুদ্ধে চলছে অপপ্রচার। আমি নাকি ক্যানসারে আক্রান্ত, আমার নাকি কিডনি খারাপ হয়ে গেছে। এই সব গুজবে কান দেবেন না, আমি আবার আপনাদের মাঝে ভরা যৌবন নিয়ে রাজপথে থাকবো। তিনি বলেন, আমার যদি কিছু হয়ে যায় আপনারা আমার ছেলে আতাহার ইশরাক সাবাব চৌধুরীকে আপনাদের পাশে রেখে রাজনীতি চালিয়ে যাবেন, তাকে ছেড়ে দিবেন না, আমি তাকে আপনাদের জন্যে রেখে গেলাম। এই বলেই তিনি সবার দিকে তাকিয়ে বলেন আজ আর বক্তব্য দেব না, সবাই আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :