
আলা-উদ্দীন সুজন, সদর : ভারি বৃষ্টিতে জেলাজুড়ে দেড় ফিট পানির নিচে তলিয়ে পড়ে আছে গত দু’দিন। পাবলিক মালিকানাধীন যতগুলো সরকারি পুকুর দিঘি জলাশয় ছিল, বর্তমানে সেই গুলো ২২ এর ভূমি জরিপের নকশাতেই দেখা যায়, বাস্তবে তিনটি দিঘি ছাড়া বাকি সব গুলো অস্তিত্বহীন। আবদুল মালেক উকিল সড়কের দুই পাশের ড্রেন দু’টি ১কি.মি. পর পর রাস্তার দুইপাশ ড্রেনকে যোগ করে কালভার্ট নির্মান করার কথা ছিল, সেই সব গুলো না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যহত হয়। এই ছাড়া প্রধান সড়কের খাল ও জলাশয় গুলো পরিপূর্ণ জবরদখলকারিদের ভবনের কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ।
অন্যদিন সদর উপজেলার চরউরিয়া, মহব্বতপুর, ধর্মপুর, নোয়াখালী ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চল নেয়াজপুর ইউনিয়নেও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ঐ সকল এলাকায় বসতবাড়ি উঠনে পানির নিচে ডুবে আছে। কাঠের চুলা নির্ভরশীল এই পরিবার গুলো রান্না করে খেতে পারছে না গত দুইদিন।
আমরা সদর উপজেলা পরিদর্শন করে দেখা যায় প্রায় এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা জরুরী। ইতোমধ্যে শিশুরা পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে, এলাকার ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানির কারণে। উপজেলার ইউনিয়ন গুলোতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এই সকল বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কোন ত্রান সামগ্রী বা সাহায্য সহযোগিতার করে নাই। ফলে বহু দিন মজুর, গরীব, বিভিন্ন রকম শ্রমিক পরিবার গুলো রান্না না করতে পেরে কোনমতে দিন কাটাচ্ছে। মান্নান নগর এলাকার সফিকুল ইসলাম জানান, গত দুইদিনের বৃষ্টিতে চরমভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ বাড়ি করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রাখায় এবং মাছের প্রজেক্ট ঘোষনা করে পানি আটকে রাখার কারণে এই অসহনীয় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
কোহিনূর নামে এক গৃহবধূ জানান, পৌর এলাকায় এবং ইউনিয়ন গুলোতে খাল বিলে ছোট বড় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে বিভিন্ন নামীদামী লোকেরা। জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসন এই সব দেখেও না দেখান অভিনয় করে। আবার ঐ সকল অবৈধ স্থাপনার মালিকের কাছ থেকে জেলার বড় বড় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘুষ নিয়ে এদের কে কিছু বলে না, উল্টো যারা প্রতিবাদ করে তারাই মরতে হয়।
জহির নামে একজন নির্মান শ্রমিক বলেন, তার কিস্তি আছে, তার মা অসুস্থ, গত কয়েকদিন কাজ বন্ধ, গত দুই দিনের বৃষ্টি বাদলে রান্নার চুলা ডুবে গেছে। এখন বউ বাচ্চা আর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কি খাবো ? কোথায় যাবো ? জানিনা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক বলেন, এই মুহূর্তে শ্রমিকদের যারা দিন মজুর তাদের কে জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করা জরুরী। এখন সহযোগিতা না করলে কবে করবে।
আপনার মতামত লিখুন :