
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী, সেনবাগ :
সেনবাগের ছাতারপাইয়া গ্রামের সানজিদা আক্তার প্রকাশ সুমাইয়া (২৪) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যুর ঘটনার জেরে নিহত সুমাইয়ার পিতার বাড়ির বিক্ষুব্দ লোকজন হামলা চালিয়ে দুইটি বসতঘর ভাংচুর করার অভিযোগ ওঠেছে। এ সময় হামলা কারীরা নিহতে শাশুড়ী মায়া বেগম (৬০) কে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে হামলার শিকার বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা নিহতের পিতা মোঃ মহসিন (৫৫)কে আটক করে রাখে। পরে খবর পেয়ে সেনবাগ থানার অফিমসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ আবুল বাশারের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থালে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং অপহৃত মায়া বেগম ও আটক মোঃ মহসিনকে উদ্ধার স্ব স্ব পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে। নিহত সুমাইয়ার দেড় বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে।
নিহত সুমাইয়া সেনবাগের ছাতারপাইয়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের গোয়াল বাড়ির মোঃ ইব্রোহিমের ছেলে সালাউদ্দিন হৃদয়ের স্ত্রী ও সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা গ্রামের মন্নান ড্রাইভারের বাড়ির মোঃ মহসিনের মেয়ে তাদের দেড় বছর বয়সের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ছাতারপাইয়া পশ্চিম পাড়া গোপাল বাড়ির মোঃ ইদ্রিসের ছেলে সালা উদ্দিন প্রকাশ হৃদয়ের স্ত্রী পাশ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউপির দক্ষিন শাকতলা গ্রামের মান্নান ড্রাইভারের বাড়ির মোঃ মহসিনের মেয়ে সানজিদা আক্তার প্রকাশ সুমাইয়া বান্ধবীকে দেবর নাসির উদ্দিনের সঙ্গে প্রেম করতে সহযোগীতা করে বলে সুমাইয়াকে অভিযুক্ত করে। এরপর সুমাইয়ার শ্বশুড় বাড়িরে লোকজন তার পিতা-মাতাকে শ্বশুড় বাড়িতে ডেকে এনে শালিস বৈঠক বসায় এবং বান্ধবীর সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখতে পারবেনা বলে তাকে বকাঝকা করে।
এরপর কয়েক মাসের মাথায় দেবর নাসির উদ্দিন গোপনে ওই মেয়েকে বিয়ে করে পেলে কিন্তু পরিবার ওই মেয়েকে মেনে নেয়নি। সম্প্রতি ওই মেয়ের পিতা মারা গেলে এলাকাবাসী পক্ষ থেকে মানবিক কারনে অসহায় মেয়েটিকে শ্বশুর বাড়িতে তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলে এতে সায় দেয় সানজিদার শ্বশুড় নাসির উদ্দিনের পিতা মোঃ ইব্রাহিম।
এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ওই মেয়েটিকে শ্বশুর বাড়িতে তুলে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। শ্বশুর-শ্বশুড়ী ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সুমাইয়াকে তার বান্ধবী দেবরের বৌকে সাজঘোজ করােেনার জন্য তাদের সঙ্গে যাবার প্রস্তুতি নেওর্য়া জন্য বলে। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজ বসতঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেছিয়ে আত্মহত্যা করে।
দীর্ষ ক্ষনেও তার কোন সাড়া শব্দ না শুনে স্বামী সালাউদ্দিন হৃদয় দরজার কড়া নাড়লেও সে সাড়া না দেওয়ায় এক পর্যায়ে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সাফিয়া-সোবাহান হাসপাতালে নিয়ে গেলে বর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থালে পৌছে তাদের মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ তুলে। এক পর্যায়ে নিহতের পিতার বাড়ি সোনাইমুড়ী থেকে ৭/৮ টি মোটারসাইকেল যোগে লোকজন এসে সুমাইয়ার শ্বশুরর বাড়ি গোপাল বাড়িতে রাত ১১টা থেকে ২টার পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে ভাংচুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে সুমাইয়ার অসুস্থ শাশুড়িকে তার পিতারর বাড়ির লোকজন অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা সুমাইয়ার পিতা মোঃ মহসিনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে রাখে। খবর পেয়ে সেনবাগ থানার ওসির নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ঘনাস্থালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করে অপহৃত মায়া বেগমেকে পেরৎ ও আটক মোঃ মহসিনকে স্বস্ব পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এব্যাপারে যোগাযোগ করলে, সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল বাশার জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটস্থালে পৌছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈয়ারী করেন। এরপর ময়না তদন্তের জন্য লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেন। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করলে লাশ দাফন করা । এ ঘটনায় সেনবাগ থানায় প্রাথমিক ভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী প্রযোজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :