প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৫ জুলাই, ২০২৬

শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনারা। তাই খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে। সেটি প্রাণী হোক বা পশু-পাখির প্রতি হোক। কারও প্রতি যেন তারা নির্দয় না হয়। তাই শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন আপনারা।

তিনি বলেন, ‘দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক দরকার। আর এই মানবিক সৈনিক আপনারা গড়ে তুলবেন। আর শিশুরা মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠলে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক এবং বাইবেল থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয়।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে প্রাথমিক শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানে এসে মনে হচ্ছে আমি একটি কারখানায় ঢুকে পড়েছি। যেখানে সবাই মানুষ গড়ার কারিগর।’

সারাদেশ থেকে আসা প্রাথমিক শিক্ষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়তে আপনাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আপনারাই পারেন শিশুদের মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে।’

তিনি বলেন, ‘জানি, আপনাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, কিছু সংকট আছে। সেগুলো আমরা সমাধানের চেষ্ট করবো। তবে আপনাদের জন্য ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করবো। যেন আপনারা অর্জিত সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সঠিকভাবে ছড়িয়েছে দিতে পারেন।’

শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তাদের প্রতিবছর একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা প্রতিবছর বর্ষাকালে একটি করে গাছ লাগাবে। গাছটাও বড় হবে, সঙ্গে তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু। গাছের নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে, শান্তি পাবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সূচনা বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।

সারাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এ সময় দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের মাঝেই খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ এর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একের পর এক চলতে থাকে গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথি সারিতে বসে এসব আয়োজন উপভোগ করেন।

শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকেরটাসহ শিশুদের আরও কয়েকটি অনুষ্ঠান আগেও দেখেছি। সম্ভবত গত ২০ জুন আর্মি স্টেডিয়ামে তোমাদের অন্য অনেক বন্ধুরা খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দারুণ খেলেছে। কিছুদিন আগে চীন মৈত্রীতেই উদ্ভাবনী একটা অনুষ্ঠান হয়েছে সাইন্স ফেয়ার টাইপের। সেখানেও হাজার হাজার শিশু অংশগ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, আজকে সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে, সত্যিই একটু হয়তো আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। কিন্তু ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে সুন্দর দেশ হিসেবে গড়তে যে কারিগর দরকার আমরা তাদের গড়ে তুলছি আস্তে আস্তে।

তারেক রহমান বলেন, আমি দুই-একটি বিষয় আলোচনা করতে চাই। আমরা সরকার গঠনের আগে বলেছিলাম শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে কিভাবে গড়ে তুলতে চাই। বিশেষ করে প্রাইমারি শিক্ষা। আমরা সব সময় বলেছি একটি দেশকে গড়ে তুলতে প্রাইমারি বিদ্যালয়, প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী; এই তিনটি অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, এ জন্য আমাদের শিক্ষকদের পাশেও দাঁড়াতে হবে। তাদের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। একই সাথে তাদের ভালো প্রশিক্ষণ দিলে শিক্ষার্থীদের প্রাইমারি স্কুল থেকে ভালো কিছুর শক্ত বুনিয়াদ গড়ে উঠবে। এ জন্য আমরা আনন্দের সঙ্গে শেখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। সবুজ বিদ্যালয় প্রদর্শনীতে দেখলাম লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বিষয়টিকে তারা ইতোমধ্যে বুঝে গেছেন।

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে আজ সারা দেশের ৬০টি জেলার অংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

একটি জাতির শুধু শিক্ষা থাকলেই আমার মনে হয় না জাতি হিসেবে তারা শক্ত বুনিয়াদের উপরে গড়ে উঠতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষার সাথে সংস্কৃতিও জরুরী। একটি জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য শত বা হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠে। এই বিষয়গুলো আমাদের শিশুদের জানাতে হবে। এই বিষয়গুলো তাদের ভেতরে দিতে হবে। তবে সঙ্গে খেলাধুলাটাও অবশ্যই থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলা বা দৌড়াদৌড়ি করার সময় স্বাভাবিকভাবে আমাদের রক্ত চলাচল বাড়বে। আমরা শ্বাস নেবো এবং রক্তের মধ্যে অক্সিজেন বেশি যাবে। অক্সিজেন বেশি গেলে রক্ত চলাচল আমাদের ব্রেইনের মধ্যেও যাবে। এতে আমাদের মস্তিষ্ক অনেক বেশি সক্রিয় হবে। যে শিশু বেশি অক্সিজেন পাবে তার বুদ্ধি তত বেশি সার্প হবে। তাই বাচ্চাদের সার্প করতে বেশি বেশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি এইসব আয়োজনে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

দেশের নারী শিক্ষায় মা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আমাদের মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ফ্রি করেছিলেন। মেয়েরা যাতে বিনা টাকায় পড়ালেখা করতে পারে।

তিনি বলেন, আজকে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, মেয়েদের পড়ালেখার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার। আমরা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একইসঙ্গে প্রাইমারিতে যেরকম স্টাইপেন দিচ্ছি, একইভাবে উচ্চ শিক্ষায় যারা ভালো রেজাল্ট করবে সেই সব মেয়েদের আমরা স্কলারশিপ দেবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিশু শিক্ষার্থীদের অনেকে অনেক সময় নতুন কাপড় কিনতে পারে না। নতুন স্কুল ড্রেস কিনতে পারে না। আমরা সরকার থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণী থেকে থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সব শিশুকে আমরা নতুন স্কুল ড্রেস দেব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আমরা মিডডে মিলের উপর কাজ করছি। যেন বাচ্চারা আরও ভালো খাবার খেতে পারে। যেটা তাদের জন্য পুষ্টিকর হিসেবে কাজ করবে। যেটাতে তারা শক্তি পাবে।

উল্লেখ্য, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৭ ও ১৮ নম্বর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিশুদের প্রতিভা ও মননশীলতার বিকাশে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে এসব প্রতিযোগিতা ধাপে ধাপে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের স্কুল পর্যায়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পদক ও সনদ এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর