
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : সুবর্ণচর উপজেলায় পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখার উপসচিব আশরাফিকুল নাহার স্বাক্ষরিত চিঠিটি ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়। এতে সুবর্ণচর উপজেলাধীন ‘সুবর্ণচর পৌরসভা’ গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত এলাকার বিভিন্ন তথ্য পাঠাতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পৌরসভা আইন, ২০০৯-এর ৩ ও ৪ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত তথ্যসহ প্রস্তাবটি সুস্পষ্ট মতামতসহ পাঠাতে হবে। এর মধ্যে প্রস্তাবিত এলাকার লোকসংখ্যা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, অকৃষি পেশার হার, অকৃষি প্রকৃতির জমির হার, ইউনিয়নের নাম, মৌজার নাম, জে.এল. নম্বর, দাগ নম্বর এবং প্রস্তাবিত এলাকার দাগ নম্বরের পারস্পরিক সংযুক্তির তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত এলাকা সেনানিবাসবহির্ভূত কি না এবং সরকারি অনুদান বা সাহায্য ব্যতীত প্রস্তাবিত এলাকার বিগত তিন বছরের গড় রাজস্ব আয় ও স্থানীয় আয়ের উৎস সম্পর্কেও তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
চিঠির সঙ্গে একটি ছকে ইউনিয়ন, মৌজা, জে.এল. নম্বর ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
এর আগে নোয়াখালী-৪ (সদর–সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান সুবর্ণচর পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ২০২৬ সালের ১১ জুলাই দেওয়া ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালে নোয়াখালী সদর উপজেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে সুবর্ণচর উপজেলা গঠিত হলেও দীর্ঘ সময়েও এখানে কোনো পৌরসভা গঠিত হয়নি।
আবেদনে মো. শাহজাহান বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সুবর্ণচরের প্রশাসনিক গুরুত্ব বেড়েছে এবং এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রও গড়ে উঠেছে। প্রস্তাবিত পৌরসভা এলাকায় আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের বসবাস এবং প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও বাজার ইজারাসহ বিভিন্ন খাত থেকে বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। পৌরসভা গঠিত হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি, রাজস্ব সংগ্রহ এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে।
এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠিতে জেলা প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়াকে সুবর্ণচর পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রস্তাবিত এলাকার তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পৌরসভা গঠনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, নোয়াখালী-৪ আসনে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মো. শাহজাহান নির্বাচিত হন।
আপনার মতামত লিখুন :