প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬

সুবর্ণচরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা বিক্রির অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে দোকানভিটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন সভাপতি আবুল বাশার মঞ্জুর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরের প্রায় ৬ শতক জায়গা ১৬ আগস্ট দোকানভিটি হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী কাজল ও ইব্রাহিম খলিলের কাছে। জায়গা বিক্রির আগে সেখানে থাকা স্কুলের গাছও কেটে বিক্রি করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে সিডিএসপির অর্থায়নে ওই জায়গায় মাটি ভরাট করে স্কুলটি নির্মিত হয় । মাঠের দক্ষিণ পাশে ভিটিগুলো নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। পরে স্কুলটি সরকারিকরণ করার পরে জায়গাটি স্কুলে দখলে চলে আসে। পরে জোবায়ের মিয়ার হাট জামে মসজিদ ও স্কুলটি জায়গায় গাছ গাছালি লাগিয়ে ব্যবহার করে আসছেন ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের জোবায়ের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় এভাবে দোকানভিটি বিক্রি করে বিদ্যালয়ের সম্পদ বেহাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল স্কুলের জায়গায় দোকান ভিটি ক্রয় এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন , নকশা ও ফেরি ফেরি মূলে তিনি জায়গাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জুর কাছে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। ক্রয় করার পর ১৬ আগস্ট টাকা লেনদেন শেষে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অতুল চন্দ্র নাথ বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গার মধ্যে আগে বড় বড় আটটি গাছ ছিল। তাঁর অভিযোগ, চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জু ইতোমধ্যে গাছগুলো বিক্রি করে দেন। পরে বিদ্যালয়ের সীমানার মধ্যে থাকা প্রায় ৬ শতক জায়গা দোকানভিটি হিসেবে বিক্রি করেছেন। এতে বিদ্যালের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।

প্রধান শিক্ষক অতুল চন্দ্র নাথ আরও বলেন, স্কুলের সীমানার মধ্যে ওই জায়গা ইব্রাহিম খলিল, মোহাম্মদ কাজল ও হেলাল উদ্দিনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। জায়গা বিক্রির পর সেখানে দোকান নির্মাণ করেছেন তারা। দোকানগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি বিড়ি সিগারেট বিক্রি হবে এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ক্ষতি হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় সেটি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ের জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জুর বলেন, দোকান ভিটা আমি বিক্রি করেছি। এ জায়গা আমি সিডিএসপির সভাপতি থাকা অবস্থায় আমার দখলে ছিল, আমার দখলের খাস জায়গা আমি বিক্রি করেছি।

স্কুলসহ পুরো বাজারটি খাস জায়গায়। ২০ বছর আগে মেম্বার থাকাকালীন সময়ে এই জায়গা আমি নিয়েছি। দখলীয় জায়গা আমি বিক্রি করেছি।

পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিক উল্যা (মেম্বার) বলেন, চেয়ারম্যান ভূমিহীন থাকা কালীন অবস্থায় এ জায়গা তিনি নিয়েছেন। তিনি তার দখলের জায়গা বিক্রি করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মকর্তা শাহে আলম বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেব।

বিদ্যালয়ের জায়গা বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, সরকারি সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করার সরকার ছাড়া অন্য কারো সুযোগ নেই। তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর