প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬

হাজিরা খাতা ছেঁড়াসহ নানা অভিযোগ, হাতিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক মামুন বরখাস্ত

উপজেলা সংবাদদাতা, হাতিয়া : শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক হাজিরা খাতা ছিঁড়ে ফেলা, সহকর্মীদের হুমকি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে হাতিয়ার ম্যাকপার্শ্বন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী তাঁকে ‘চাকরি হইতে বরখাস্তকরণ’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইশরাত নাসিমা হাবীব এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেন।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মামুন অর রশিদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো, বিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি, নৈতিকতাবিবর্জিত আচরণের ছবি মুঠোফোনে সংরক্ষণ, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, শিক্ষক হাজিরা খাতা ছিঁড়ে ফেলা, সহকর্মীদের হুমকি দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করার মতো অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের তদন্তে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। গত ১৬ জুন প্রথম দফা এবং ২৪ জুন দ্বিতীয় দফায় তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

তদন্তের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ৩০ জুলাইয়ের আদেশে তাঁকে ৩ আগস্ট ব্যক্তিগত শুনানিতে উপস্থিত হতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি শুনানিতে উপস্থিত হননি।

পরে তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এর ভিত্তিতেই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও অনিয়মের বিষয়গুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।”

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর