
উপজেলা সংবাদদাতা, সদর : মাইজদীর উত্তর ফকিরপুর এলাকায় একটি বাসায় গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মুখ পরিবর্তন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অকার্যকর করার পর বাসার কলাপসিবল গেট কেটে ও তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের বিভিন্ন আলমারি, ওয়ারড্রব ও টেবিলের তালা ভেঙে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল মধ্যরাতে উত্তর ফকিরপুরের বাসাটিতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রথমে ডাকাতরা বাসার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরপর বাসায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর দিক পরিবর্তন করে দেয়, যাতে তাদের কর্মকাণ্ড ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা না পড়ে। পরে কলাপসিবল গেট কেটে এবং ঘরের তালা ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করে।
ঘরে প্রবেশের পর ডাকাতরা একে একে বিভিন্ন আলমারি, ওয়ারড্রব ও টেবিলের লক ভেঙে তল্লাশি চালায়। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তার মা ও ছোট বোনের স্বর্ণালংকার, বাসার মাসিক খরচের জন্য রাখা নগদ টাকা, জরুরি প্রয়োজনে সঞ্চিত টাকা এবং ছোট বোনের জমানো অর্থ নিয়ে যায় ডাকাতরা।
এ ছাড়া ব্যাংকের চেক, ব্যাংক কার্ড, একটি পুরাতন মোবাইল ফোন, ছোটখাটো কয়েকটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, ভুক্তভোগীর মায়ের শাড়ি এবং নতুন জামাকাপড়ও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে ঘটনার সময় বাসায় ভুক্তভোগীর মা ও ছোট বোন ছিলেন না। নানুর গুরুতর অসুস্থতার কারণে ঘটনার আগের দিন বিকেলে তারা নানুবাড়িতে চলে যান। ফলে বড় ধরনের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি থেকে পরিবারটি রক্ষা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সিসিটিভির দিক পরিবর্তন এবং গেট ও তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশের ঘটনায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
আপনার মতামত লিখুন :