প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সোনাইমুড়ীতে ইজারার নামে চলছে অবৈধ চাঁদাবাজি!

মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী-চাটখিল আঞ্চলিক সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই চলছে সড়ক দখল, চাঁদাবাজি, ইজারার নামে অর্থ আদাই। সোনাইমুড়ীর বাংলাবাজার সংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কের ওপরে বসছে ভ্রাম্যমান বিভিন্ন দোকান। সেখান থেকে ইজারার নামে চলছে চাঁদা আদাই। পণ্য সরবরাহ করতে সড়কে দাঁড়ালে বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি, পিকআপ, ক্যাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক থেকেও টাকা তুলছে বাজারের ইজারাদারেরা। এছাড়া সড়কের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে চলছে ইট, বালুর ব্যবসা।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি দোকান থেকে সন্ধ্যার পর ইজারার নামে ৫০ থেকে ১০০ টাকা তুলছে একটি মহল। সড়কের কোথায় কে দোকান বসাবে তা নির্ধারণ করে দিচ্ছে ওই মহলের সদস্যরা। আর নির্মাণাধীন সড়কের ওপরে বালু ও ইট রেখেছেন বাজারের রড-সিমেন্টের ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, সোনাইমুড়ী-চাটখিল ফোরলেন সড়কের প্রকল্পটি একনেক থেকে অনুমোদিত হয় ২০২৪ সালের ২৮ মে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্যাকেজের আওতায় বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ সড়কের প্রশস্তকরণ করা হবে। এই কাজের লক্ষ্যে সওজ থেকে বিভিন্ন সময়ে লিজ নেওয়া জমিতে নির্মিত দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদের আওতায় আসে। তবে উচ্ছেদ শেষে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই আবারো শুরু হয়েছে দখল আর ইজারার নামে অর্থ উত্তোলণ।

প্রতিদিন বিকাল থেকে নির্মাণাধীন সড়কটিতে আসতে থাকেন বিভিন্ন ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা। চটপটি, ফুসকা, মুড়ি, হালিম ইত্যাদি খাবারের দোকান বসানো হয় সড়কের ওপরে। আর এই দোকান গুলো থেকেই চলে চাঁদাবাজি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানী বলেন, এই রাস্তা ইজারা দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর ইজারার টাকা তুলতে আসেন কয়েকজন। তারা প্রতিটি দোকান থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে আদাই করে। ।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। আবার অনেক গাড়ী ব্যবসায়ীদের থেকে পণ্য বোঝাই করে অন্যত্র পৌঁছে দেয়। তবে এসব পরিবহণ থেকেও ইজারার নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে। তবে ইজারা গ্রহণের বিপরীতে কোন রশিদ দেওয়া হচ্ছেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলা বাজারের ফাতেহা টেলিকমের স্বত্বাধিকারীরা সালাহউদ্দীন আহম্মেদ চলতি অর্থবছরে বাংলা বাজারের ‘তোলা বাজার’ ইজারা নিয়েছেন। শেয়ারে রয়েছেন শিমুল, মোশাররফ, রাজু, ইব্রাহিম বাবু সহ আরো কয়েকজন। আর তাদের পক্ষ থেকেই ৪-৫ জন ব্যক্তির এই চাঁদা তোলেন।

কথা হলে মোঃ শিমুল জানান, ভ্যাট-ট্যাক্স সহ ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলা বাজার ইজারা নেওয়া হয়েছে। সেই খরচ তুলতে বিভিন্ন কোম্পানির পরিবহন ও ভ্রাম্যমান দোকান থেকে ইজারা আদাই করা হয়। এসব জায়গা থেকে ইজারা না তুললে তাদের টাকা উঠবে কিভাবে? প্রতিবেদকের কাছে এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মুঠোফোনে বাংলা বাজারের ইজারাদার সালাহউদ্দীন আহম্মেদের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

তবে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আকতার জানান, উপজেলা প্রশাসন কোন সড়ক ইজারা দেয়না। বাংলা বাজারের ‘তোলা বাজার’ নামক অংশ টুকু ইজারা দেওয়া হয়েছে। তোলা বাজারের অংশে যারা কাঁচা বাজার বসাবে, ব্যবসা করবে তাদের থেকেই শুধু ইজারা তোলা যাবে। এর বাইরে কোথাও থেকে চাঁদা তুললে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, সড়কের কোন জমি ইজারা দেওয়া হয়নি। বাংলা বাজারের নির্মাণাধীন সড়কের ওপরে দোকানগুলো অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে ইজারার নামে চাঁদাবাজিও অবৈধ। ৫-৭ দিনের মধ্যে সড়কের ওই অংশে যানবাহন চলাচল শুরু হবে।

আরও পড়ুন