প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৫ অক্টোবর, ২০২৬

মাদকসেবনে নিষেধ করায় রিকশাচালককে ‘মাদকসেবী’ সাজিয়ে পিটিয়ে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ীতে মাদক সেবনে নিষেধ করায় মো. ফয়েজ আহম্মদ (৪৩) নামে এক রিকশাচালককে ‘মাদকসেবী’ অপবাদ দিয়ে মব তৈরি করে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একদল কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই দুই কিশোর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফয়েজকে মাদকসেবী সাজিয়ে হামলার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাতে সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলীয়া মাদরাসা এলাকার সড়কে ফয়েজকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন কয়েকজন কিশোরের মাদক সেবন নিয়ে আপত্তি জানান ফয়েজ। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এর জের ধরে ওই রাতেই ফয়েজকে মাদকসেবী হিসেবে অপবাদ দিয়ে মব তৈরি করা হয়। পরে ১০ থেকে ১২ জন কিশোর লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এলোপাতাড়ি মারধরের পর তাকে সড়কের ওপর ফেলে রেখে যায় তারা।
পরে স্থানীয়রা ফয়েজকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।

অভিযান চালিয়ে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনই রাজমিস্ত্রির কাজ করত।

রোববার তাদের নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মামলার অন্য আসামিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর