
আমেরিকার টেক্সাসে আরও একটি ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান মেটা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এল পাসো-তে নতুন একটি ডেটা সেন্টার তৈরিতে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তাঁরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় অর্থের অঙ্কটা ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।
সারা বিশ্বে এটি হতে যাচ্ছে মেটা’র ২৯ তম ডেটা সেন্টার, আর টেক্সাসে তৃতীয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে নিজেদের পরিকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবেই ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে মেটা। ঠিক যেমনটা করছে মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, ওপেনএআই’র মতো শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে বাড়ছে এর ব্যবহারের পরিধিও। স্বাভাবিকভাবেই তাই বৃদ্ধি পাচ্ছে এর চাহিদা। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা মেটাতেই বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ডেটা সেন্টার সক্ষমতা বাড়াতে বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে এ খাতে।
টেক্সাসের এল পাসো-তে নির্মিতব্য নতুন ডেটা সেন্টারটি ২০২৮ সালে চালু হবে বলে আশা করছে মেটা। সেন্টারটি ১ গিগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছে তাঁরা। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহরের এক দিনের বিদ্যুতের সংস্থান সম্ভব। সার্বিকভাবে এটি হতে যাচ্ছে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টারগুলোর একটি।
অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মেটা এবং মাইক্রোসফটের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তাঁরা এআই খাতে ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করবে। এই বিনিয়োগের সিংহভাগই ডেটা সেন্টার সক্ষমতা বাড়াতে খরচ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।
এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, এল পাসো-তে নির্মিতব্য নতুন ডেটা সেন্টারটি চালু হলে সেখানে ১০০ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হবে এবং এটির নির্মাণকাজ যখন পুরোদমে চলবে তখন এখানে ১৮ শ’রও বেশি নির্মাণকর্মী কাজ করবে। শক্তিশালী বৈদ্যুতিক গ্রিড এবং দক্ষ কর্মীর সহজলভ্যতার জন্যই ডেটা সেন্টারটির নির্মাণস্থান হিসেবে এল পাসো-কে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিনিয়োগসহ এখন পর্যন্ত টেক্সাসে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে মেটা। বিনিয়োগের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি লোক নিয়োগ করেছে ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
পরিবেশের ওপর ডেটা সেন্টারের বিরুপ প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই মেটা বলেছে যে, এল পাসো’র ডেটা সেন্টারটিতে শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। এর ক্লোজড-লুপ, লিকুইড কুলিং সিস্টেম ক্রমাগতভাবে পানি পুনর্ব্যবহার করবে।
মেটা’র প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, স্থানীয় উৎস থেকে ডেটা সেন্টারটি যে পরিমাণ পানি ব্যবহার করবে এর দ্বিগুণ পরিমাণ পানি তাঁরা জলাধারগুলোতে ফিরিয়ে দেবে। উল্লেখ্য, মেটা’র দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তাঁদের ডেটা সেন্টারগুলোতে যে পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হবে তার চেয়ে বেশি পানি পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া।
আপনার মতামত লিখুন :