
কম্পিউটার ভালো ও নতুনের মতো রাখার উপায় জানা খুব জরুরি। নিজেকে ভালো রাখার জন্য অনেকেই নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যান শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার করার জন্য। গাড়িটা যেন সুন্দর ভালো ভাবে চালানো যায়, সেজন্য গ্যারেজে গিয়ে সার্ভিসিং বা মেরামত করে নিতে হয়। একইভাবে নিজের ব্যবহার করা প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্যগুলির প্রতিও যত্ন নিতে হবে। আর তাহলে লক্ষ্যে করে দেখবেন যে আপনার ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যগুলো একদম আগের মতোই কাজ করছে বা ভালো পারফর্ম্যান্স দিচ্ছে। আজকের ব্লগে আমরা— কম্পিউটার ভালো ও নতুনের মতো রাখার উপায় জানতে পারব।
কম্পিউটার ভালো এবং নতুনের মতো রাখার উপায়
কম্পিউটার সুরক্ষায় আমরা অনেক কিছুই অবলম্বন করি। কিন্তু সঠিক উপায় কজন জানেন? সাধারণত ছোটো কোনো কারণে কম্পিউটারে নানা সমস্যা দেখা যায়। সেগুলো না বুঝে নিজের মতো করে যত্ন করাও বিপদের কারণ হতে পারে। কম্পিউটারের সুরক্ষায় নিচের কাজগুলো করা যেতে পারে।
উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা
কম্পিউটারটিকে ধুলোবালি মুক্ত এমন কোনো পরিষ্কার এবং পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখুন, যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা আছে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং সরাসরি সূর্যের আলো ও তাপ প্রবেশ করে এমন স্থান থেকে কম্পিউটারকে দূরে রাখুন। কম্পিউটারের তার, সুইচ ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ যথাসম্ভব শিশু ও গৃহপালিত পশু-পাখির নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণত আমরা খেয়াল করি না কম্পিউটারের ভেতরে কী চলছে। দুয়েক বছরের পুরোনো কম্পিউটারের প্রসেসরের ওপর যে কুলার থাকে সেটিতে ধুলো জমে কুলিংয়ের কাজে ব্যাঘাত ঘটে। তা ছাড়া ফ্যানের নিচে আর প্রসেসরের মাঝে যে থার্মাল পেস্টের লেয়ার থাকে সেটি শুকিয়ে গেলে সিপিইউ থেকে তাপ কুলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। এখন থেকে কম্পিউটার চালিয়ে এইচডব্লিউ মনিটর (HW Monitor) নামের সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। মাঝে মাঝে খেয়াল করে দেখুন— কম্পিউটার যখন চালু করছেন, আর যখন খুব কাজ করছেন, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত। যদি দেখেন সাধারণ ভাবে ৩৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ৭৫ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, খুব একটা চিন্তার কারণ নেই। তাপমাত্রা যদি তার থেকে বেড়ে যায়, ভালো করে ভেতরের ধুলো পরিষ্কার করুন। অনেক ক্ষেত্রে এতেই কাজ হয়ে যায়। কিন্তু তাতেও না হলে থার্মাল পেস্ট পাল্টাতে হতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় ফাইল, অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্ট দূর করা
কম্পিউটারে জমা হওয়া অপ্রয়োজনীয় ফাইল, আকর্ষণীয় অ্যানিমেশন ইত্যাদি কাজের গতি কমিয়ে দেয়। উক্ত গতি ঠিক করতে পারে ক্লিনআপ প্রোগ্রাম। সেক্ষেত্রে যেকোনো ক্লিনার অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি, অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো আনইন্সটল করে দিন। প্রয়োজনবোধে অপারেটিং সিস্টেম রিইনস্টল করুন।
ছবি না জমানো
বর্তমানে মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল ক্যামেরার কল্যাণে এখন অনেক অনেক ছবি তোলা যায়, সাথে সেলফি তো আছে বটেই। কিন্তু এসকল ছবি রাখার পর্যাপ্ত জায়গা কোথায়? একটি ভালো মানের স্মার্টফোনের ক্যামেরায় ছবি তুললে সেই ছবি এখন কমপক্ষে ২ থেকে ৫ মেগাবাইট জায়গা দখল করে নেয়। আপনি যদি সবগুলো পিকচার আপনার ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা ডেস্কটপে রেখে দিতে চান তাহলে সেটি জায়গা দখল করে নেবেই। আপনি ল্যাপটপ, ডেক্সটপের জায়গা যত বেশি পরিমাণ ভর্তি করে রাখবেন, তত আপনার কাজ করতে অসুবিধা সৃষ্টি হবে। তাই ছবিগুলো বেছে বেছে ল্যাপটপের মধ্যে রাখুন। আর এখন ছবি ডিভাইসে না রেখে অনলাইনে রাখার মতো পর্যাপ্ত ড্রাইভ রয়েছে, যেমন— গুগল ড্রাইভ, গুগল ফটোস ইত্যাদি। আপনি এগুলোতে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিয়ে ফ্রিতে ১৫ জিবি ব্যবহার করতে পারবেন।
আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা
কম্পিউটারে অ্যান্টিভাইরাসের সর্বাধুনিক ভার্সন ব্যবহার করুন ও নিয়মিত আপডেট করুন। এরপর নিয়মিত ভাইরাস চেকিং, স্ক্যানিং চালু রাখুন। অন্যথায় ভাইরাসের কারণে কম্পিউটারের গতি কমে যেতে পারে।
কম্পিউটার স্টার্ট করার সময় যেসব সফটওয়্যার চালু হয় সেগুলো লক্ষ্য করুন। এখানে বেশি সফটওয়্যার থাকলে তা কম্পিউটারের গতি কমিয়ে দেবে। এজন্য স্টার্ট মেনু থেকে “Msconfig” টাইপ করুন। এরপর “Startup”-এ যান। এখানেই কম্পিউটার চালুর সময়কার সফটওয়্যারগুলো পাবেন। তবে এখান থেকে যেকোনো কিছু ডিলিট করার আগে ভালোভাবে জেনে নিন। অন্যথায় তা কম্পিউটারের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ক্লিন উইন্ডোজ ইনস্টল করা
কম্পিউটারে যদি অসংখ্য সফটওয়্যার ও ভাইরাসের ছড়াছড়ি থাকে তাহলে তার সব সফটওয়্যার নতুন করে ইনস্টল করাই ভালো। এজন্য উইন্ডোজ ইনস্টলের সিডি বা ইউএসবি স্টিক সংগ্রহ করুন। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী ইনস্টল করুন। সম্ভব হলে হার্ড ডিস্ক পার্টিশন “সি” (অথবা আপনি যেখানে উইন্ডোজ রাখতে চান) সম্পূর্ণ ফরম্যাট করে নতুন করে সেখানে উইন্ডোজ ইনস্টল করুন।
ব্রাউজারের ক্যাশ পরিষ্কার করা
আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজারে যদি নিয়মিত ওয়েবসাইট ভিজিট করেন, তাহলে এর ক্যাশে বহু ফাইল জমা হতে পারে। এ ফাইলগুলো দূর করার জন্য সেটিংস মেনু থেকে ক্যাশ অপশনে যান। এরপর ক্লিয়ার ক্যাশ ক্লিক করুন।
সার্চ ইনডেস্ক রিফ্রেশ করা
কম্পিউটারে সংরক্ষিত বিভিন্ন ফাইল দ্রুত সময়ে খুঁজে বের করতে সার্চ ইনডেস্ক রিফ্রেশ করা প্রয়োজন। এজন্য উইন্ডোজের ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্টার নিয়মিত (সাধারণ ব্যবহারে সপ্তাহে একবার) চালাতে হবে। এটি সাধারণত কন্ট্রোল প্যানেলেই সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।
কম্পিউটার রিস্টার্ট করা
কম্পিউটার যদি দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে চলে তাহলে গতি কমে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সমাধান হলো রিস্টার্ট করা। তবে বিনা দরকারে যখন তখন কম্পিউটার রিস্টার্ট করা বা সরাসরি মেইন সুইচ অফ করা থেকে বিরত থাকুন। যেকোন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে প্রথমে ম্যানুয়ালি শাট ডাউন করুন ও প্রয়োজনবোধে প্রধান বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।
কম্পিউটার নিয়মিত সার্ভিসিং করানো
বছরে অন্তত একবার হলেও কম্পিউটার সার্ভিসিং করুন। সার্ভিসিং করানোটা আপনার অযথা বলে মনে হতে পারে কিন্তু আপনি যদি এটি করেন তাহলে লক্ষ্যে করে দেখবেন আপনার ল্যাপটপ, ডেক্সটপের আয়ু বাড়বে। ডিভাইস নষ্ট হওয়ার পর ঠিক করানোর তুলনায় আগে থেকে যত্ন নেওয়াটা অনেক বেশি কার্যকর। আর সবসময় চেষ্টা করবেন বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা পরিচিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে এবং এক জায়গা থেকেই নিয়মিত সার্ভিসিং করাবেন। এতে করে আপনার ডিভাইস সঠিকভাবে সার্ভিসিং করার নিশ্চয়তা রয়ে যায়।
শেষকথা
কম্পিউটার অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্র, যার কারণে নিয়মিত ও সুষ্ঠু পরিচর্যার অভাবে এটি কর্মক্ষমতা হারাতে সময় নেয় না। কম্পিউটারের মূল উপাদানগুলোর ব্যাপারে সম্যক জ্ঞান এবং দুর্বল দিকগুলোর ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ও যত্নশীল থাকলে আপনার কম্পিউটারটি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন আরও বেশ কিছুদিন।
প্রিয় পাঠক, এই ছিল— কম্পিউটার ভালো ও নতুনের মতো রাখার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত। আশা করি সবাই আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। কেউ কোনো কিছু না বুঝলে কিংবা কারও কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এই ধরনের আরও পোস্ট পড়তে বিজ্ঞান নিউজে চোখ রাখুন। ধন্যবাদ।
আপনার মতামত লিখুন :