
উপজেলা প্রতিনিধি, বেগমগঞ্জ : বেগমগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন স্মৃতিস্তম্ভে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা টানানোর ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় বীরদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি স্মৃতিস্তম্ভটির উপরে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা এবং একটি রাজনৈতিক দলের পতাকা উড়তে দেখা যায়। এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁর নামে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ কোনো খেলাধুলা, দলীয় প্রচারণা বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতীক প্রদর্শনের স্থান নয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিস্তম্ভটিকে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পতাকা টানানো হচ্ছে, যা জাতীয় বীরদের প্রতি অসম্মানজনক।
সচেতন মহলের মতে, একটি স্বাধীন দেশের সর্বোচ্চ বীরত্বের প্রতীক স্মৃতিস্তম্ভে বিদেশি পতাকা স্থাপন করা শুধু অনভিপ্রেতই নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনাকে অবমূল্যায়নের শামিল। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ঘটনা কীভাবে ঘটছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ নাগরিক বলেন, ফুটবল সমর্থন করা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিস্তম্ভে বিদেশি পতাকা টানিয়ে সমর্থন প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তারা অবিলম্বে স্মৃতিস্তম্ভ থেকে সব ধরনের বিদেশি ও দলীয় পতাকা অপসারণ, স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়রা দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভ থেকে বিদেশি পতাকা অপসারণ এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :