
নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মঘণ্টা এবং জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কার্যক্রমে সময়, অর্থ ও জনশক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সহ-আয়োজনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
উপদেষ্টা বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তার প্রয়োজনীয়তা ও জনকল্যাণে প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। প্রতিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার Return on Investment (ROI) মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কত টাকা ব্যয় হলো, কত কর্মঘণ্টা বিনিয়োগ করা হলো এবং তার বিনিময়ে জনসেবার মান কতটা উন্নত হলো—এ হিসাবও প্রশাসনিক মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রশাসন, বিচক্ষণ কূটনীতি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিভিল সার্ভিস গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি পরিহার করে ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিয়মানুবর্তিতা ও দেশপ্রেম অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রশাসন। একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী রাষ্ট্র গঠনে সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার সমন্বিত করে বাস্তবায়ন সূচক (ট্র্যাকার) তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তর করলে জবাবদিহিতা ও বাস্তবায়নের গতি বাড়ে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ারও পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতিও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসন একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :