প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৮ আগস্ট, ২০২৬

সোনাইমুড়ীতে খাল খননে ভেকুর ব্যবহার, ৫১ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ীতে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ করা অর্থে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকের পরিবর্তে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে খাল খনন, ভুয়া শ্রমিকের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে টাকা উত্তোলন, মাটি বিক্রি এবং বৃক্ষরোপণ না করার অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের শিমুলিয়া-গজারিয়া এলাকায় দুই কিলোমিটার খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা। এর মধ্যে ১১৯ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ বরাদ্দ ছিল ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪০ টাকা।

প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে তালিকাভুক্ত কয়েকজন নারী জানান, তাঁরা খাল খননের কোনো কাজ করেননি। তাঁদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার পর চেকবইয়ের একাধিক পাতায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাঁদের হিসাবে ২১ হাজার ৫০০ টাকা করে জমা হলেও বড় অংশ অন্যরা নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

বোরপিট গ্রামের বিউটি আক্তার বলেন, ‘খাল খননের কোনো কাজ করিনি। আমার হিসাবে ২১ হাজার ৫০০ টাকা জমা হওয়ার পর টাকা উত্তোলনের মেসেজ পাই। পরে সোলেমান বাড়িতে এসে ২ হাজার টাকা দিয়ে যান।’

প্রকল্প সভাপতি ও নদনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজগর হোসেন সোহেল জানান, তিনি ২৯ জন শ্রমিক দিয়েছিলেন। তবে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। শ্রমিকদের বরাদ্দের টাকা থেকে মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরেজমিনে খালের বিভিন্ন অংশে ভেকু দিয়ে খননের চিহ্ন দেখা গেছে। খালের পাড়ে প্রকল্পের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ডও পাওয়া যায়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণের দৃশ্যও চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, খননের পর খালের পাড়ের মাটি রাতের আঁধারে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পিআইও কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মো. আল মামুন ও কর্মসহকারী আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব ও টাকা উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের পর অভিযোগের কিছু অংশের সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেশকাতুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ১১৯ জন শ্রমিক কাজ করেছেন এবং তাঁরা হাজিরা অনুযায়ী টাকা পেয়েছেন। পরে ভেকু ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৫০০ টাকা হাজিরায় বর্তমানে শ্রমিক পাওয়া যায় না। সরকারি কাজ একটু এদিক-ওদিক করতে হয়।’

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প তদারকি কমিটির সভাপতি নাছরিন আকতার বলেন, শ্রমিক দিয়েই খাল খনন করা হয়েছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে ভেকু ব্যবহার করা হয়েছে। মাটি বিক্রির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসাদ্দেক হোসেন জানান, অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের অর্থ, শ্রমিক তালিকা, ব্যাংক হিসাব ও ভেকু ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক।

আরও পড়ুন

  • সোনাইমুড়ী এর আরও খবর