
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফি নেয়ার সুযোগ রেখে একটি প্রস্তাবিত আইনে অনুমোদন দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটি।
রোববার (২৩ আগস্ট) এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, প্রস্তাবিত এই আইনে জাহাজ চলাচল, পরিবেশগত সেবা, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বিমা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ফি নেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনও আইন হয়নি। এর জন্য পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদনসহ আরও কয়েকটি ধাপ পার হতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক এই কমিটি ‘হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রস্তাবিত আইনের পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে।
কমিটির মুখপাত্র হাসান কাশকাভি বলেন, আগের বৈঠকে বিলম্বিত হওয়া আইনের তৃতীয় ধারাটি পর্যালোচনার পর অনুমোদন দিয়েছেন সদস্যরা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও পরিবেশগত সেবা, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বিমা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সেবার জন্য ফি নেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
কাশকাভি জানান, প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া দেশগুলোর জাহাজ থেকে এসব ফি নেয়া হবে। ফি ইরানি মুদ্রা রিয়াল অথবা তেহরান নির্ধারিত অন্য কোনও মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত আইনে হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী দেশগুলোর অধিকারও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়টি প্রস্তাবিত আইনে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং তাদের অধিকার সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালি অন্যতম বড় বিরোধের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখন ইরান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জাহাজ থেকে ফি নিতে চাইছে। তবে তেহরানের এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে সদ্য অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হতে হলে প্রথমে এর ধারাগুলো সংশ্লিষ্ট পার্লামেন্টারি কমিটিতে আলোচনা ও অনুমোদন করতে হবে। এরপর কমিটির প্রতিবেদন পার্লামেন্টে পাঠানো হবে। সেখানে বিলটির প্রতিটি ধারা এবং পুরো বিলের ওপর ভোটাভুটি হবে।
পার্লামেন্টে পাস হলে বিলটি গার্ডিয়ান কাউন্সিলে পাঠানো হবে। সেখানে পরীক্ষা করে দেখা হবে, এটি সংবিধান ও ইসলামি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। গার্ডিয়ান কাউন্সিল কোনও আপত্তি জানালে বিলটি আবার পার্লামেন্টে ফিরে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :