প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০২৬

নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত রাজুর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

স্টাফ রিপোর্টার : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি ফ্রাইড চিকেনের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে ইউসুফ রাজু (৪৪) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে শোকের মাতম চলছে।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের রাউনসভিল এলাকায় ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামের একটি রেস্টুরেন্টে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রাজুর বাড়ি সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মোহাম্মদ উল্যার ছেলে।

স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন কাতারে কাজ করার পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন রাজু। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ঋণ করতে হয়েছে। নিজের জমানো কিছু অর্থও খরচ করেছিলেন। কিন্তু এখনও সেই ঋণের বড় অংশ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের ছোট ভাই বলেন, শনিবার রাতে রাজু কর্মস্থলে ছিলেন। এ সময় এক বন্দুকধারী রেস্টুরেন্টে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে রাজুর বুকে গুলি লাগে। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন রাজুর সহকর্মী মো. রাসেল। তার বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, বিদেশে যাওয়ার সময় রাজুর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর জন্ম নেয় ছোট মেয়ে রাইসা। অবসর পেলেই স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন রাজু। পরিবারকে নিজের কাছে নেয়ারও পরিকল্পনা ছিল তার।

আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, রাজু বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক টাকা ঋণ করেছিলেন। পরিবারের ভাঙা ঘরটাও এখনো ঠিক করতে পারেননি। এমন অবস্থায় তার মৃত্যু পরিবারটিকে অসহায় করে দিয়েছে।

রাজুর শ্যালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন রাজু। তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন সবাই উদ্বিগ্ন। আমরা এমন হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

রাজুর বাবা মোহাম্মদ উল্যা ও মা লাকি আক্তার ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। একই দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী পলি আক্তারও।

এদিকে ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

রাজুর বাবা মোহাম্মদ উল্যা বলেন, সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। স্বপ্ন ছিল সে সংসারের অভাব দূর করবে, ঋণ শোধ করবে এবং আমাদের জরাজীর্ণ ঘরটি নতুন করে গড়ে তুলবে। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে আজ সে আর নেই। আমরা এখনও ভাঙা ঘরেই বসবাস করছি, ঋণের বোঝাও মাথায় রয়ে গেছে। এখন শুধু ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে চাই।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার বলেন, বিদেশে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু বেদনাদায়ক। রাজুর মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারটি যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর