• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

চৌমুহনীতে শীতে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভাসমান শ্রমিকরা

উপজেলা প্রতিনিধি, বেগমগঞ্জ : বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে প্রতিদিন সকাল-বিকেল ভাসমান শ্রমিকের হাট বসে। সকালে আড়মোড়া ভাঙার আগেই শ্রমিকদের উপস্থিতিতে এলাকাটি সরব হয়ে ওঠে। সময় যতই গড়ায়, শ্রমিকদের সংখ্যাও তত বাড়তে থাকে। সকাল নয়টার মধ্যে আবার ভিড় কমে যায়। ফের বিকেলেও শ্রমিকদের উপস্থিতিতে এলাকাটি সরব হয়ে ওঠে। সময় যতই গড়ায়, শ্রমিকদের সংখ্যাও তত কমতে থাকে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন দৈনিক চুক্তিতে এখান থেকে শ্রমিক নিয়ে যান। তবে গত কয়েক দিনের ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশায় তাদের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে।

তীব্র শীতে ভোগান্তিতে পড়েছে ভাসমান শ্রমিকের হাটের শ্রমিকরা। গত এক মাস ধরে নিয়মিত কাজ মিলছে না বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ শ্রমিক।

পাশ্ববর্তী জেলা লক্ষ্মীপুর থেকে আসা শ্রমিক মিলন মিয়া বলেন, রামগতি থেকে কাজের সন্ধানে এখানে সাতজন আমরা আসছি। গত তিনদিন কোনো কাজ পাইনি। বাড়ি থেকে ঋণ করে টাকা এনে কোনো রকম খেয়ে বেঁচে আছি। অনেক জেলা থেকে এখানে শ্রমিক আসে কিন্তু কাজ নাই বললেই চলে।

সুবর্ণচরের চরজব্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলতাফ মিয়া প্রায় চার বছর ধরে চৌমুহনীতে থাকেন। এই শ্রমিক হাটের একজন নিয়মিত সদস্য তিনি। কাজ নেই বলে সহকর্মীদের সাথে কথা বলে সময় পার করছেন। তিনি বলেন, শীত আসার পর থেকে কাজ নাই। গত ১৫ দিনের মধ্যে তিন দিন কাম করছি। বাড়িতে পাঁচ-ছয় জন মানুষ। সংসার কেমনে চলব জানিনা।

হাতিয়া উপজেলার শ্রমিক সাহাব উদ্দিন বলেন, মূল্য কম দিলেও যা কাজ পাই তাই করি। বেঁচে থাকতে হইলে ত কাজ করতে হবে। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। কেউ কাজ পায় আবার কেউ পায় না। আবার বিকেলে আসি। কাজ না পেলে এরপর কোদাল লইয়া (নিয়ে) ফিরত যাই।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন বলেন, এখন মেশিন বের হয়ে আমাদের প্রয়োজন কমে গেছে। ১০০ জনের কাম এক ঘণ্টায় মেশিন কইরালায় (করে ফেলে)। ধান কাটার মেশিন বাইর করছে। আবার ধান রোপন করার মেশিনও বের হইসে। এসব আমগো মতো গরিবরে মারার মেশিন।

চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ফাইয়্যাজ ইফতি বলেন, শীতে চৌমুহনীর এই শ্রমিক বাজারে শ্রম বিক্রি করতে আসা শ্রমিকদের কাজ কমে গেছে। নির্মাণ শ্রমিক, মালী, রাজমিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রী থেকে শুরু করে নানা কাজের শ্রমিকেরা ভিড় করেন এখানে। রোদসহ নানা কিছুর উপর নির্ভর করে শ্রমিকদের কাজ পাওয়া। কাজ না পেলে বেকার সময় কাটাতে হয়। স্থায়ী কাজ না থাকায় অনেকে অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে। কেউ কেউ রাতের বেলায় রেল স্টেশনেই থাকে।

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে তাপমাত্রা কমে তখন প্রচুর শীত অনুভব হয়। আবার দিনে তাপমাত্রা বাড়ে। সূর্যের মুখ দেখা সামান্য তাপেও ঠান্ডা কমেনি। নোয়াখালীতে আজ সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শীত আরও কিছুদিন থাকবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর