• ঢাকা
  • রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৬ জুলাই, ২০২৪

২৫ বছর ধরে বোটম্যানের বেতন তোলেন বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন!

মোহাম্মদ হানিফ, সোনাইমুড়ী: দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বন বিভাগের বোটম‍্যান হিসেবে (নৌকাচালক) চাকরি করেন মহিউদ্দিন। তার প্রথম পোস্টিং জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার বন অফিসে। কিন্তু তিনি কখনো অফিসে আসেন না, চাকরিও করেন না। এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কখনো তাকে দেখেননি। তিনি ঐ অফিসের বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের সহোদর। দুই ভাই এক অফিসে চাকরি করেন।

বোটম‍্যান মহিউদ্দিন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি স্বাক্ষর দিতে জানেন না। প্রতিমাসে তার বেতন ও অন্যান্য ভাতাসহ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন তার সহোদর ও বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন। এই তথ্য বন বিভাগের বিভিন্ন সূত্রের।

সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ২৫ বছর পূর্বে বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের শারীরিক প্রতিবন্ধী সহোদর মহিউদ্দিনকে বেগমগঞ্জ বন বিভাগের বোটম্যান হিসেবে চাকরি দেয়া হয়। তবে তিনি চাকরি করেন না। বাড়িতে থেকেই বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের জমিতে চাষাবাদ করেন। বন বিভাগের কেউ তাকে কখনো অফিসে আসতে দেখেননি। কিংবা চাকরি করতে দেখেননি। প্রতিমাসে তার বেতন ও অন্যান্য ভাতাসহ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন তার সহোদর বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা গঠিত হওয়ার পর থেকে বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন ওই উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছে। এই দুই উপজেলায় বনায়ন ও উপকারভোগী সদস্যদের দলিল এবং নামের তালিকা প্রদান করেননি কখনো তিনি। বনায়ন অথবা বাগান মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও নিজের মনমত উপকারভোগীদের নামের তালিকা জেলা অফিসে পাঠান। এই তালিকায় স্থান পায় নিজের আত্মীয় ও প্রভাবশালী মহলের।

সেনবাগ, সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় কোন কর্মকর্তার পোস্টিং হলে তাদের সাথে বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কাজ করতে থাকেন শামসুদ্দিন। একপর্যায়ে তারা এখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। এ সুযোগে পরে তিনি পুনরায় অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১২ সালে সোনাইমুড়ী বন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান ইউসুফ। তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেয়ায় তিনি রামগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। বর্তমান সোনাইমুড়ী উপজেলার বন কর্মকর্তা শামসুল কবির চিকিৎসার জন্য এক মাসের ছুটিতে ভারতে যান। চিকিৎসা শেষে কর্মস্থালে যোগদান করতে চাইলে বেগমগঞ্জ কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করেন। বিভিন্ন চাপে পড়ে পাঁচ মাস পর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ- এই তিন উপজেলায় সরকারিভাবে গাছ নিলামের টেন্ডার নিজ উদ্যোগে দাখিল করতেন। পরে নিজেই লটগুলো বিক্রি করতেন।

অভিযোগে আরো জানা যায়, পাপুয়া গ্রামের হাফেজ খোরশেদ আলমের ছেলে সুমনকে এক বছর পূর্বে গাছের টেন্ডার পাইয়ে দেয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা ও ভানুয়াই গ্রামের খোকনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এবং জয়াগ ইউনিয়নের ও উলুপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন থেকে গাছের টেন্ডার পাইয়ে দেয়ার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নেন বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন। নানা তালবাহানায় এখন আর ওই টাকা ফেরত দিচ্ছে না।

নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে। তবে তার ভাই বোটম্যান হিসেবে বেগমগঞ্জে চাকরি করেন। তা তিনি জানেন না।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর