
নুশরাত রুমু, সদর: বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে ইতিবাচক বার্তায় রূপ দিতে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় জেলা শহরের নোয়া কনভেনশন হলের পেছনের টার্ফ মাঠে এ ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল—দুই দলের খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সদর উপজেলা, নোয়াখালী শহর এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দলের খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত লড়াই ও দৃষ্টিনন্দন নৈপুণ্যে মাঠে উপস্থিত দর্শকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। প্রিয় দলের সমর্থনে করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। নির্ধারিত সময় শেষে ২-২ গোলের সমতায় ম্যাচ ড্র হলে উভয় দলের সমর্থকরাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রশংসা করে দর্শকরা ভবিষ্যতেও ছাত্রদলের উদ্যোগে এমন প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, “ফিফা বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের মানুষ আবেগের জায়গা থেকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা—এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েন। অনেক সময় এই সমর্থনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। আমাদের এই প্রীতি ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া—খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু দিন শেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি। পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে খেলাকে উপভোগ করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপে অংশ নিক এবং সেদিন সবাই একসঙ্গে লাল-সবুজের পতাকার পক্ষে উল্লাস করি।”
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান বলেন, “কিশোর ও তরুণরা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তারা সহজেই নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ থেকে দূরে থাকতে পারে। খেলাধুলা শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে অনেক তরুণ মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এই প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে আমরা তাদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, তারা যেন অপরাধের পথ পরিহার করে খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করে এবং সুস্থ, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।”
আপনার মতামত লিখুন :