
নুশরাত রুমু, সিনিয়র প্রতিবেদক : নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপের বিপরীতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট চিকিৎসাসেবাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রতিদিনই ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিশেষায়িত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে হাসপাতালটিতে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসে হাসপাতালটিতে মোট ৬৪৪টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সার্জারি, অর্থোপেডিকস, গাইনি, ইএনটি, প্লাস্টিক সার্জারি ও সিজারিয়ান অপারেশন উল্লেখযোগ্য। গত ৩০ জুন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৪৯ জন এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৫২৯ জন। আগের দুই দিনেও ভর্তি ও বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত বেশি।
এদিকে ১৭ শয্যার হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ১১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেককে মেঝে ও চলাচলের স্থানেও থাকতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৭ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলমান প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, সিনিয়র কনসালটেন্ট, নার্স, মিডওয়াইফ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, ১৭ শয্যার বিপরীতে ১১১ জন রোগী ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান রোগীর চাপ মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জনবল বৃদ্ধি প্রয়োজন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, নোয়াখালীর নয়টি উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল নিয়েই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ভবন পুরোপুরি চালু হলে শয্যা সংকট কিছুটা কমলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ ছাড়া হাসপাতালের সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :