• ঢাকা
  • বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৩০ জুন, ২০২৬

মাইজদীতে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের প্রতিনিধি সভা, অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি

নুশরাত রুমু, সদর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত কথিত ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ ও ‘অসম’ বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা না দেওয়া এবং তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবিতে নোয়াখালীর মাইজদীতে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় মাইজদী প্রেস ক্লাবে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট আয়োজিত এ প্রতিনিধি সভায় জেলার বিভিন্ন বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি জেলা সভাপতি শহীদ উদ্দিন বাবুল।
সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নিখিল দাস, বাসদ (মাহবুব)-এর সদস্য মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনজুর আলম মিঠু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুকান্ত শফি কমল এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য বিটুল তালুকদার। সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তারকেশ্বর দেবনাথ নান্টু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র  জেলা সদস্য আনোয়ারুল হক, সিপিবি জেলা সদস্য তপন ঘোষ প্রমূখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে Agreement on Reciprocal Trade (ART) নামে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাদের দাবি, চুক্তিটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

তারা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে আলোচনা কেবল শুল্ক কমানোর বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করে তারা বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়েছেন। তাদের মতে, চুক্তির শর্তগুলো অনেক বিস্তৃত এবং একতরফা। একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে পারে এবং যার দায়-দায়িত্ব ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর বর্তাবে—এ প্রশ্নও তোলেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু জনগণকে না জানিয়ে ১৫ বছর মেয়াদি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করা তাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক এখতিয়ারের বাইরে। তাই সরকারের উচিত চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করা, প্রয়োজন হলে তা থেকে সরে আসা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।

সভায় কেন্দ্রীয় নেতা মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন বলেন, এই দাবিতে ইতোমধ্যে ঢাকায় জাতীয় সংসদ অভিমুখে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংসদের ৩০০ সদস্যের কাছে খোলা চিঠিও পাঠানো হয়েছে। একই দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিনিধি সভা ও গণসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট দেশব্যাপী আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আরও জোরদার করবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর