প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সোনাইমুড়ীতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলা-লুটপাট-অপহরণের মামলা

মো. হানিফ স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ীতে বিএনপির এক নেতার বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর ও তার দুই ছেলেকে অপহরণের অভিযোগে দেওটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদ আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে সোনাইমুড়ী থানায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়।

মামলার বাদী নূর হোসেন দেওটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মামলায় রাশেদ আলম ছাড়াও আলী, নিশান, আবদুল, শামিম, গাদ্দাফিসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১০ টাকা রিকশা ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে নূর হোসেনের বড় ছেলে রাকিবকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে নূর হোসেনকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পরবর্তীতে নূর হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুই ছেলে রাকিব ও রবিনকে দুই দফায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

নূর হোসেনের দাবি, তার ছেলেদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাশেদ আলমের পক্ষে বক্তব্য দিতে বাধ্য করে ভিডিও ধারণ করা হয়। তার স্ত্রীকেও হুমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নূর হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ওই ভিডিও বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্রচার করে মূল হামলার ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে রাশেদ আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘রিকশা ভাড়াকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পরে নূর হোসেনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। তদন্তে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা-ই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।’

তবে রাশেদ আলম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলার বাদীর সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।

তার ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাশেদ আলম বলেন, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করছেন। বিবাহিত কি না জানতে চাইলে তিনি বিবাহিত নন বলে দাবি করেন। মামলার আরেক আসামি নিশান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাকে ছোট ভাই হিসেবে চিনি।’

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে রাশেদ আলমকে দেওটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়। কমিটি গঠনের সময় তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে তার ছাত্রত্ব ও বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে দলীয়ভাবে যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে দেওটি ইউনিয়নের ভানুয়াই মোল্লা বাড়িতে জেলা বিএনপির সদস্য জাবেদ মোল্লার বাড়িতে অস্ত্রসহ হামলার অভিযোগও রাশেদ আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

মামলার আরেক আসামি নিশানের সঙ্গে রাশেদ আলমের ঘনিষ্ঠতার বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একসঙ্গে তোলা ছবি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, যেখানে মুখে মাস্ক ও সাদা জামা পরা এক ব্যক্তিকে অস্ত্র হাতে কয়েকজন সহযোগীসহ একটি বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তিই নিশান বলে দাবি করা হলেও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেছেনওই ছবি নিশানের ।

এ বিষয়ে জানতে রাশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিশানকে তার ছোট ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে তিনি স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আইনগত কার্যক্রম চলমান।’

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর