প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২৫

সোনাইমুড়ীতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট-খোয়া!

Oplus_131072

মোহাম্মদ  হানিফ, সোনাইমুড়ী : জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার এবং ইটের গুঁড়া দিয়ে সড়ক নির্মাণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জিএমপি-৩ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন এ সড়কটিতে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও দুর্নীতির কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ওই সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

জানা যায়, জিএমপি-৩ প্রকল্পে সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বারগাঁও ইউনিয়নের কল্পাপোড়া বাজার থেকে পশ্চিমে মিয়াপুর গ্রামের ইটের রাস্তা সলিং পর্যন্ত ১৮০০ মিটার সড়কে ইট ও বালির পরিবর্তে মাটি দিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদার। রাস্তার পাশে অ্যাজিংয়ে ১নং ইট দেয়ার নিয়ম থাকলেও ৩নং ইট ব্যবহার এবং কালভার্ট নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালি ও সিমেন্ট দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার এলাকাবাসী উপজেলা প্রকৌশলী ইমদাদুল হকের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাননি বলে জানান তারা।

এলাকাবাসী ফরহাদ, মাইনুল, গিয়াস উদ্দিন ও রুবেল জানান, ঠিকাদার এই প্রকল্পটির কাজ শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছে। নিম্নমানের ইট, কংক্রিটের পরিবর্তে ইটের গুঁড়া দিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। নরম মাটি ফেলে রাস্তার পাশ বাড়ানো হয়েছে। এতে নির্মাণ কাজ শেষ হতেই ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঠিকাদার আলম তার নিজস্ব মালিকানাধীন ইটভাটা থেকে পরিত্যক্ত ইটের গুঁড়া এনে রাস্তার নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানালেও তারা কর্ণপাত করেননি। ঠিকাদার ও তার লোকজনকে কাজ বন্ধ করতে একাধিকবার বললেও তারা শোনেননি।

সর্বশেষ মঙ্গলবার বেলা ১১২টার দিকে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে রোলার ড্রাইভারকে কাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। স্থানীয়রা আরও জানান, সড়কের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে ঠিকাদার তার সহোদর যুবলীগ নেতাকে দিয়ে এলাকাবাসীকে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোমেনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলম জানান, সড়ক নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। তবুও স্থানীয় এলাকাবাসী গতকাল বেলা ১২টার দিকে সড়কের কাজ বন্ধ করে দেন। পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ইমদাদুল হক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রকৌশলী ইমদাদুল হক বলেন, সড়কে নির্মাণসামগ্রী নিম্নমানের দেয়ার অভিযোগে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে তিনি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে পরিদর্শন করেছেন। কংক্রিটের পরিবর্তে ইটের গুঁড়া দেয়ার সত্যতা পেয়েছেন। সেগুলো সরিয়ে ভালো কংক্রিট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঠিকাদারকে।

আরও পড়ুন