
নিজস্ব প্রতিবেদক : সদর উপজেলার পৌরসভাধীন মাইজদী বাজারস্থ পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস ভবনের তৃতীয় তলায় প্যারামেডিকেল নাসিং ইন্সটিটিউট এর পরিচালক বিশ্বজিত চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী গৃহবধূ রেখার (ছদ্দনাম) সাথে নানা ধরনের কৌশল করে জোরপূর্বক অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারন করে গত তিন বছর যাবত ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ঐসব অন্তরঙ্গ ভিডিও মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্বজিত। এর ফলে গৃহবধূর সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয়েছে।
পুলিশ সুপার বরবার করা অভিযোগে জানাযায় সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড শ্রীপদ্দি গ্রামের পরেশ চন্দ্র শীলের পুত্র বিশ্বজিত চন্দ্র শীল এর পরিচালনাধীন মাইজদী বাজারস্থ প্যারামেডিকেল ইন্সটিটিউট এ নার্সিং পড়ার জন্য ভর্তি হয় গৃহবধূ রেখা (২৯)। ১৯ জানুয়ারি ২৩ দুপুর ২টায় ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ রেখা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় বিশ্বজিত ক্লাশ ছুটি দিয়ে টিট্রমেন্টের নামে রেখাকে রেখে দেয়।
অন্য শিক্ষার্থীরা চলে গেলে বিশ্বজিত রেখাকে চেতনা নাশক ইনজাংশন পুশকরে অচেতন করে সেখানে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে ও মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে ঐ ভিডিওর ভয় দেখিয়ে গত তিন বছর ধরে রেখার সাথে ব্ল্যাকমেইলিং করতে থাকে বিশ্বজিত। রেখাকে নিয়ে চৌমুহনীর রেডিসান হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলে, নিজ ভাড়া বাসায় ও প্যারামেডিকেল ইন্সটিটিউটের পার্সনাল কক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এমনকি ৫ মে ২৩ দুপুরে রেখার কপালে জোরপূর্বক সিন্দুর লাগিয়ে দিয়ে রেখাকে স্ত্রী দাবী করে। রেখা সিন্দুর মুছে ফেলে ও তীব্র প্রতিবাদ করে। এক পর্যায়ে বিশ্বজিত শীলের স্ত্রী রিক্তা বৈষ্ণবকে বিষয়টি অবগত করলে বিশ্বজিত ভবিষ্যতে আর রেখার সাথে সম্পর্ক রাখবেনা বলে অঙ্গীকার করে। এর পরও বিশ্বজিত রেখাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নানাভাবে হয়রানী ও অনৈতিক সম্পর্ক বহাল রাখে।
গত ৮ নভেম্বর ২৪ ভোক্তভূগি ঐ গৃহবধূ নোয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করলে পুলিশ সুপার ডিবি পুলিশকে দায়িত্বদেয়। ডিবি বিশ্বজিতকে ৯ডিসেম্বর ২৪ ধরে নিয়ে ডিবি অফিসে বসে বিশ্বজিত থেকে অঙ্গীকার নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর ও বিশ্বজিত থেমে নেই। তার অব্যাহত হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলিং এর কারণে রেখার জীবন হুমকির মুখে। তার স্বামীর সংসার ও ভবিষ্যৎ জীবন অনিশ্চিত। রেখা বিশ্বজিত চন্দ্র শীলের গ্রেফতার ও এহেন কর্মকান্ডের সুবিচার প্রার্থনা করে প্রশাসনের কাছে।
এ ঘটনার বিষয়টি জানতে বিশ্বজিত চন্দ্র শীলের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তার সাথে আমার সমস্যা সমাধান হয়েছে। সে এখন বিভিন্ন ভাবে আমার মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
আপনার মতামত লিখুন :