• ঢাকা
  • বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

সোনাইমুড়ীর বজরায় ১% প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (১%) প্রকল্পের আওতায় সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নামে নামমাত্র কাজ করে পুরো বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়েছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিজের বিরুদ্ধে। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্থানীয়দের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও হুমকির অভিযোগও উঠেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, বজরা ইউনিয়নের দিঘীরজান সেতু থেকে বজরা শাহী জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ১% প্রকল্প থেকে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য আমেনা বেগমকে। তবে বাস্তবে প্রকল্পের পুরো অর্থ তুলে নেন ইউপি সদস্য মফিজ এমন অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী জানান, সড়ক সংস্কারের নামে কয়েকটি গর্তে সামান্য মাটি ফেলে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। সড়কের নিচু ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো ভরাট করা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে ও অর্থ ব্যয়ে মাটি কিনে সড়ক সংস্কার করেন।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অর্থে পুরো সড়ক সংস্কারের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য কাজ না করে জনগণের সঙ্গে ‘নয়-ছয়’ করে দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে উল্টো গালমন্দ ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মফিজ। তিনি বলেন, ‘১ শতাংশ প্রকল্পের কাজ সরকারি নিয়মকানুন মেনেই করা হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা অভিযোগ ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আমেনা বেগম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘কাগজে-কলমে আমাকে প্রকল্পের সভাপতি দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ ও অর্থ সবই ইউপি সদস্য মফিজ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহারিন আক্তার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর