
নুশরাত রুমু, সদর
সদর উপজেলার মাইজদী শহরে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি আবাসিক ভবনের ছয়টি ফ্ল্যাটে সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১০ লাখ টাকা, ল্যাপটপসহ মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১ জুন) দুপুরে শহরের ফকিরপুর এলাকায় অবস্থিত ‘আলম মঞ্জিল’ ও পাশের ‘আলামিন মঞ্জিল’ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আলম মঞ্জিলের চারটি এবং আলামিন মঞ্জিলের দুটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাসার বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র একাধিক ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
পরে আলমারি, ওয়্যারড্রপসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, ল্যাপটপ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
চুরির ঘটনায় প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজে কাঁধে ব্যাগ বহনকারী এক অজ্ঞাত যুবককে এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
আলামিন মঞ্জিলের একটি ফ্ল্যাটে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী বসবাস করতেন। ঈদের ছুটিতে তারা নিজ নিজ বাড়িতে থাকায় ওই ফ্ল্যাট থেকে কী পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ফ্ল্যাটের ভেতরে আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মানিক জানান, পরিবারের সদস্যরা একটি দাওয়াতে অংশ নিতে বাসার বাইরে ছিলেন। ফিরে এসে তারা চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। তার দাবি, চোরেরা তাদের বাসা থেকে প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।
আলম মঞ্জিলের মালিক মাহমুদ হোসেন বলেন, ঘটনার সময় তারাও বাসায় ছিলেন না। তার মতে, এতগুলো ফ্ল্যাটে একই সময়ে চুরি সংঘটিত হওয়া কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। স্থানীয় সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :