• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২ জুলাই, ২০২৬

দাফনের ৬৬ দিন পর কবর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উত্তোলন

স্টাফ রিপোর্টার : সদর উপজেলায় গৃহবধূ স্বপ্না বেগমের দাফনের ৬৬ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেন নিহতের বোন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে স্বপ্না বেগমের শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেন সোহানের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্বপ্না বেগমের বিয়ের পর থেকে তার স্বামী, শ্বশুর ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসেবে প্রায় ১২ লাখ টাকা আদায় করেন। এরপরও গত ২৫ এপ্রিল শ্বশুরের দোকান মেরামতের কথা বলে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতার কথা জানালে স্বপ্না বেগম তার বোনকে জানান, দাবিকৃত অর্থ না দিলে তাকে নির্যাতন করা হবে এবং সংসারে থাকতে দেয়া হবে না।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত স্বপ্না বেগমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন করা হয়।

নিহতের স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে জানতে চাইলে প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেন। এতে তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে নির্যাতনের বিষয়ে তথ্য পান তারা। এছাড়া দাফনের আগে তোলা একটি ছবিতে স্বপ্না বেগমের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার গত ১৮ জুন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী, শ্বশুরসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গত ২৪ জুন নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। মরদেহ উত্তোলনের সময় চিকিৎসক ডা. ফয়সাল মো. তৌহিদুজ্জামান এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেন সোহান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন