• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৬ জানুয়ারি, ২০২৪

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) নিরুত্তাপ ভোটের মাঠে নৌকার ব্যালট বিপ্লবের স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদন : জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসন গঠিত। এখানে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ লোকের বসবাস। এই আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আলী (নৌকা), জাতীয় পার্টির মুশফিকুর রহমান (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের তারিকুল ইসলাম (ছড়ি)। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৮ জন। তার মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯২১ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ জন। এখানে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের চেয়ে ব্যক্তির প্রভাব সবসময় বেশি পরিলক্ষিত ছিল। যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ আলী তিনবারের সংসদ সদস্য। বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি। তার স্ত্রী দুইবারের সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস নৌকাকে জেতাতে কাজ করছেন দিনরাত। একইভাবে কাজ করছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শান্তির জনপদে নৌকায় ভোট বিপ্লব হবে বলে আশা করছেন মোহাম্মদ আলী।

জানা গেছে, হাতিয়ায় দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের চেয়ে ব্যক্তির প্রভাব সবসময় বেশি পরিলক্ষিত ছিল। যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ অধ্যাপক ওয়ালী উল্যা-মোহাম্মদ আলী সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত লেগেই থাকত। ২০১৪ সালে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ মোহাম্মদ আলীর সহধর্মিণী আয়েশা ফেরদাউস নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার পর এই সংঘাতের অবসান ঘটে। তখন কেন্দ্রের নির্দেশে মোহাম্মদ আলীর আহ্বানে অধ্যাপক ওয়ালী উল্যাহ গ্রুপ একসঙ্গে হয়ে নৌকার পক্ষে নির্বাচন করে। ব্যক্তি মোহাম্মদ আলীর বিশাল ভোট ব্যাংক ও ওয়ালী উল্যার গ্রুপ এক হয়ে যাওয়ায় নৌকার বিজয় অনেকটা সহজ হয়ে যায়। যা আজও অব্যাহত রয়েছে।

এরপর ২০১৮ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীকে সভাপতি ও ওয়ালী উল্যার ভাতিজা মহি উদ্দিন আহাম্মেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর থেকে দুই গ্রুপ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্ব মেনে মাঠে কাজ করছে। বর্তমানে হাতিয়ায় আওয়ামী রাজনীতিতে সংঘাত নেই বললেই চলে। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আয়েশা ফেরদাউস। গত দুবারের তিনি নির্বাচিত এমপি।

মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে। হাতিয়াতে আমাদের নেতা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড চলছে। আমাদের হাতিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী। তিনি বিপুল পরিমাণ ভোট পাবেন। আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।

মোহাম্মদ আলী বলেন, হাতিয়ার মানুষ আমার জন্য ভোট করছেন। তারা ভোট দিয়ে ব্যালট বিপ্লব ঘটাবেন এটা আমি নিশ্চিত। আমাদের হাতিয়ায় নতুর নতুন চর জাগছে, বেড়িবাঁধও হচ্ছে, আরও হবে । তবে হাতিয়াবাসীর মূল সমস্যা নদী ভাঙ্গন সেটি রোধকল্পে প্রধানমন্ত্রী একনেকে প্রকল্প পাশ করিয়েছেন। হাতিয়ায় বিদ্যুৎ আছে। এখন নিরাপদ নৌ যোগাযোগ নিশ্চিত করা আমার প্রধান পরিকল্পনা।
প্রসঙ্গত , মোহাম্মদ আলী এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী।

তিনি ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সমর্থন নিয়ে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। এর পর ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদে একই আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টি সমর্থনে পুনরায় সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন