
উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী : সোনাইমুড়িতে মাদ্রাসায় বস্তাবন্দী শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার(১৪ জুন) জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলার উত্তর মির্জানগর মন্ত্রীর মসজিদের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় বক্তারা নিহত আব্দুল মান্নানের খুঁনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান।
মানববন্ধনে নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ হানিফ জানান, বলাৎকারের ঘটনা দেখে ফেলায় তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। পরে খুনের ঘটনাকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখাতে পানিতে ফেলা হয়েছে লাশ। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি গত সোমবার থেকে আব্দুল মান্নান নিখোঁজ ছিল। তবে লাশ পাওয়ার আগে পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। এছাড়া সোমবার থেকে হারানোর গল্প বলা হলেও মাদ্রাসার সিসিটিভির ফুটেছে মঙ্গলবার গোসল করতে যেতে দেখা যায় আব্দুল মান্নানকে। মূলত হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে ফুটেজের তারিখ ওলট-পালট করা হয়েছে বলে বক্তব্যে অভিযোগ করেন হানিফ।
মানববন্ধনে নিহতের বাবা কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ এই ঘটনায় মামলা নেয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসলে তারা কোন তদন্তই করতে পারবে না। তিনি এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড দাবি করে ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সহায়তা কামনা করেছন।
নিহত শিশুর কাকা কামরুল ইসলাম বলেন, আদালতে মামলা দায়ের করায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। গতকাল(১৩ জুন) রাত সাড়ে দশটার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক তাকে এই ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেয়। আব্দুল মান্নানের হত্যার ঘটনা নিয়ে আর কোন প্রতিবাদ করলে বড় ঝামেলায় পড়বে বলেও হুশিয়ারি দেয় ওই দুই অজ্ঞাত যুবক। পরে মোবাইল বের করে তাদের ছবি তুলতে গেলে দ্রুত বাইক চালিয়ে চলে যায়।
নিহতের মা জানান, গত শনিবার তিনি মাদ্রাসায় আব্দুল মান্নানকে দেখতে যান। সেসময় মান্নান জানায় তার ওস্তাদ আহসান হাবিব একটি ছাত্রকে বলাৎকার করেছে। আর সেই ঘটনা কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয় মান্নানকে। বলাৎকারের ঘটনা যাতে ফাঁস না হয় এজন্য খুন করা হয়েছে তার সন্তানকে।
মানববন্ধনে মির্জানগর এলাকার কয়েকশ এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা আব্দুল মান্নানের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
আপনার মতামত লিখুন :