• ঢাকা
  • বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২১ জুন, ২০২৪

সোনাইমুড়ীতে ‘আলোর পথে নাটেশ্বর’ সংগঠনের মাদক বিরোধী সেমিনার

উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী : সোনাইমুড়ীতে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোরগ্যাং এর বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২০ জুন) সন্ধ্যায় আলোর পথে নাটেশ্বর ইউনিয়ন নামক সংগঠনের উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
উপজেলার নাটেশ্বর বটতলী বাজারের মির্জানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে এই আয়োজন করা হয়।  এসময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নাটেশ্বর ইউনিয়নের সচেতন মহল বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যতদিন মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের পরে তদবির কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। কিশোরগ্যাং এর পেছনে যেসব বড় ভাই আছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হবেনা।
সংগঠনের সদস্য মনসুর আলম মঞ্জু বলেন, মাদক-কিশোরগ্যাং মুক্ত করতে হলে শুধু সেমিনার করে চলে গেলে হবেনা। কারা কিশোরগ্যাং করে তাদের পিতামাতাদের সাথে কথা বলে সচেতন করতে হবে। কথায় কাজ না হলে তাদের বয়কট করতে হবে। এছাড়া রাজনৈতিক সেল্টারদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনীতি মুক্ত এলাকা গড়তে পারলে এলাকা কিশোরগ্যাং মুক্ত করা সম্ভব হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আলোর পথে নাটেশ্বর একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। সমাজ উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সংগঠনটি। যদি এখনই রাজনৈতিক-সামাজিক ভাবে মাদক-সন্ত্রাস-কিশোরগ্যাং এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভাবে ব্যবস্থা না নেই তাহলে একসময় এগুলো কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাবে। বেকারত্ব দূরীকরণে ব্যবস্থা নিতে হবে। খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে কিশোরদের ব্যস্ত রাখতে পারলে মাদক থেকে তাদের দুরে রাখা যাবে। প্রশাসনকে তিনি নাটেশ্বর ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ রাখেন। সেইসাথে কোন মাদক ব্যবসায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে তাদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ওয়াদা করেন।
এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ আলী বলেন,  নেপাল থেকে এমপি আনার হত্যার আসামি গ্রেফতার করে আনছে প্রশাসন। তারা চাইলে এই নাটেশ্বর ইউনিয়নে কেউ মাদক ব্যবসা করতে পারবে না। তিনি প্রশাসনের কাছে করজোড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মির্জা জহিরুল হক মামুন তার বক্তব্যে বলেন, ২ আসনের সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে মাদক-কিশোরগ্যাং এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। তবে যার যার অবস্থান থেকে আমরা নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে আসলে এগুলো নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের সাথে যারা জড়িত তাদের কাউন্সেলিং করতে হবে। আলোর পথে নাটেশ্বরের পক্ষ থেকে মাদক ছাড়লে কর্মসংস্থানের সহায়তার উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান। সংগঠনের সকল কর্মসূচিতে সহায়তার আশ্বাস দেন।
নাটেশ্বর ইউনিয়নের বিট অফিসার এবং সোনাইমুড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার চিরঞ্জীব দাস বলেন, আমাদের সমাজে যারা মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী তাদের দুই গ্রুপকে একসাথে নির্মূল সম্ভব নয়। মাদক সেবন বন্ধ করা গেলে ব্যবসায়ীরা এমনিতেই নির্মূল হয়ে যাবে। তিনি আশ্বস্ত করেন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের সাথে থানা-পুলিশের কোন সম্পর্ক নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজের মানুষ সহযোগিতা করেনা। একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরলে কেউ সাক্ষী দিতে চায়না। পরে মাদক ব্যবসায়ী শাস্তি না পেয়ে জামিনে এসে আরো বেশি দামে মাদক বিক্রি শুরু করে। কিশোরগ্যাং সম্পর্কে তিনি বলেন, আপনারা ভালো জানেন কারা কিশোরগ্যাং এর সাথে যুক্ত। আপনারা তাদের সাথে কথা বলে, কাউন্সিলং করেন। যদি কথা না শোনে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিবো। এসময় তিনি  বলেন স্কুল চলাকালিন স্কুলের আশপাশে ছাত্র ব্যাতিত কাউকে পেলে এবং সন্ধার পরে বিনা প্রয়োজনে কোন শিক্ষার্থীকে রাস্তা ঘাটে বা বাজারে দেখলে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে হুশিয়ারি করেন।
এসময় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন  আলোর পথে নাটেশ্বর ইউনিয়ন সংগঠনের আহবায়ক মির্জা জহিরুল হক মামুন, সদস্য সচিব মুফতি সাইফুল ইসলাম সোহাইল, সভাপতি মুহাম্মাদ আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ বরকত উল্লা, নাটেশ্বর ইউনিয়নের বিট অফিসার এবং সোনাইমুড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার চিরঞ্জীব দাস প্রমুখ।
সেমিনারে নাটেশ্বরের বটতলী বাজার এলাকার কয়েকশো এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই মাদক, সন্ত্রাস, কিশোরগ্যাং এর বিরুদ্ধে এমন সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা আয়োজনের জন্য আলোর পথে নাটেশ্বর সংগঠনকে সাধুবাদ জানান।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর